• স্বস্তির খোঁজে পুকুরে ডুব রামলালের!
    এই সময় | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • বুদ্ধদেব বেরা ■ ঝাড়গ্রাম

    তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। স্বস্তিতে নেই বন্য জন্তুরাও। মঙ্গলবার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পুকুরে একের পর এক ডুব দিল রামলাল। আধ ঘণ্টায় শরীর জুড়িয়ে জঙ্গলে ফিরে গেল সে।

    সাত দিন ধরে লোধাশুলি রেঞ্জের কেঁওদিশোল গ্রাম সংলগ্ন কাজু বাগানে আস্তানা গেড়েছিল জঙ্গলমহলের জনপ্রিয় দাঁতাল হাতি রামলাল। রাত হলেই খাবারের সন্ধানে হানা দিচ্ছিল ধানের জমিতে, গৃহস্থের বাড়িতেও। কেঁউদিশোলের বিমল মাহাতো বলেন, 'সাত দিন ধরে কাজু বাগানে রয়েছে। দিনে জঙ্গলে থাকছে। রাত হলেই ধানের জমিতে নেমে পড়ছে। আর যে দিন বেশি গরম লাগে, সে দিন পুকুরে নেবে নিজের খেয়ালে স্নান করে। মানুষের তেমন ক্ষতি না করলেও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।'

    দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই দলছুট রামলাল। ঝাড়গ্রাম, লোধাশুলি, শালবনিতে ঘুরে বেড়ায়। ভালোবেসে তার নাম দেওয়া হয়েছে — রামলাল। শান্ত স্বভাবের। তবে খাবারের প্রতি লোভ সামলাতে পারে না। মাঝেমধ্যেই দেখা যায়, ঝাড়গ্রাম–লোধাশুলির রাস্তায় লরি আটকে খাবারের সন্ধান করছে। কখনও মুদি বা আনাজের দোকানে হানা দেয়। লোধাশুলি ও জিতুশোলে রাইস ও আটা মিলেও মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়ে। কখনও গ্রামে ঢুকে বাড়ি থেকে ধানের বস্তা বের করেও সাবাড় করে দেয়।

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাঁকরাইল ব্লকের খড়্গপুর বন বিভাগের অন্তর্গত কলাইকুন্ডা রেঞ্জের বারডাঙ্গা বিটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একদল হাতি। জানা গিয়েছে, খড়গপুর বনবিভাগে ৯০–৯২টি হাতি রয়েছে। হাতির হানায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা। সাঁকরাইল ব্লকের আঙ্গারনালি গ্রামের সুশীল মাহাতো বলেন, 'খাওয়ার পাশাপাশি চাষের জমি পায়ে মাড়িয়ে তছনছ করে দিচ্ছে। হাতির ভয়ে বহু চাষি ধান চাষ করাই ভুলে গিয়েছেন।' খড়্গপুর বন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, 'আবেদন করলেই কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।'

  • Link to this news (এই সময়)