• রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে মুর্শিদাবাদের 'নবাব'-এর খাট, তাজ্জব শহরবাসী...
    আজকাল | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য সড়ক ধরে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলেছে একটি খাট। তার উপর বসে এক যুবক মাঝে মধ্যে কিছু কসরত দেখাচ্ছেন। এমনই একটি ভাইরাল ছবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে গোটা রাজ্য জুড়ে। জানা গিয়েছে, চলমান ওই খাটটি বানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের ডোমকল শম্ভুনগর এলাকার বাসিন্দা জনৈক নবাব শেখ। 

    বছর সাতাশের নবাব ইদের দিন চলমান এই খাট নিয়ে ডোমকল, রানিনগর-সহ আশেপাশের এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ঘোরার পর ওই চলমান গাড়ি-খাট রাস্তায় যানজট তৈরি করছে। এই কারণে পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে তাঁর 'বাহন' নিয়ে আপাতত রাস্তায় বার হতে নিষেধ করা হয়েছে। 

    ডোমকলের একটি বেসরকারি স্কুলের গাড়ি চালক নবাব কেবলমাত্র সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার জন্য বছরখানেক আগে চলমান খাট তৈরির পরিকল্পনা করেন। নবাব বলেন, 'ছোটবেলা থেকে আমি পড়াশোনা করিনি। প্রথম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর আর স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু বিখ্যাত হওয়ার শখ আমার বরাবরই ছিল। সেই কারণে কয়েকজন বন্ধুদের সঙ্গে চলন্ত গাড়ি-খাট তৈরি করার পরিকল্পনা করি। প্রায় দেড় বছরের পরিশ্রমে এই যান আমি তৈরি করতে পেরেছিলাম।' চার চাকা বিশিষ্ট এই গাড়ি-খাটে শোওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সামনে রয়েছে 'লুকিং গ্লাস'। খাটের নিচের অংশে রয়েছে গাড়ির যাবতীয় কলকব্জা।'  তবে বিখ্যাত হতে গিয়ে এখন চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন নবাব। ইদের দিন নিজের তৈরি করা গাড়ি-খাট চালিয়ে সেই ছবি নিজের সমাজমাধ্যমে আপলোড করার পর সেই সমাজমাধ্যম থেকে তার বিরুদ্ধে কপিরাইটের কেস দেওয়া হয়েছে। 

    নবাব বলেন, 'আমার কাকার দোকান থেকে কাঠের ফার্নিচার এবং কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতা নিয়ে লেদ মেশিনে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিছু পরিবর্তন করে প্রায় ২.১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে এই গাড়ি-খাট তৈরি করেছি। কিন্তু ইদের দিন বের হওয়ার পর একদিকে যেমন প্রশাসনের তরফ থেকে এই গাড়ি-খাট নিয়ে আমাকে বড় রাস্তায় বার হতে বারণ করা হয়েছে তেমনি ওই ভিডিও নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় আপলোড করার পর সেখানেও আমার বিরুদ্ধে কপিরাইট কেস দেওয়া হয়েছে।' নবাব অভিযোগ, 'বাংলাদেশে কিছু যুবক আমার ভিডিও ব্যবহার করে নিজেদের সমাজমাধ্যমের পাতায় আপলোড করেছে এবং তারাই আমার চ্যানেলের বিরুদ্ধে কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগ করেছে। বাংলাদেশিদের দাবি এই ভিডিও সেই দেশে তোলা। অথচ ভিডিওতে আমাকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।' নবাব বলেন, 'আমার ভিডিও ব্যবহার করে বাংলাদেশের কিছু লোক আর্থিকভাবে লাভবান হলেও আমি সমাজমাধ্যম থেকে এক টাকাও পাচ্ছিনা। গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও সেখান থেকেও আমি কোনও সহযোগিতা পাচ্ছি না। পুলিশে তরফ থেকে আমাকে বলা হয়েছে আমি 'বেআইনিভাবে' একটি গাড়ি-খাট তৈরি করেছি। তাই এই ভিডিও ব্যবহার করে উপার্জনের জন্য কোনও ব্যবস্থা তারা করতে পারবে না।' দু'চোখে জল নিয়ে হতাশ হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বসে নবাব বলেন, 'গোটা ভারতবর্ষের লোককে নতুন কিছু দেখানোর ইচ্ছা থেকে গাড়ি-খাট তৈরির কথা আমার মাথায় আসে। কেউ আমাকে এই বিষয়ে কোনও সাহায্য করেনি। অথচ আমার তৈরি জিনিসের কোনও কৃতিত্ব আমি পাচ্ছি না।'
  • Link to this news (আজকাল)