জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাথরপ্রতিমায় বাজি বিপর্যয়ে গ্রেফতার বাজি-ব্যবসায়ী চন্দ্রকান্ত বণিক। গতকাল আটকের পর আজ গ্রেফতার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলা থানার অন্তর্গত পাথরপ্রতিমার তিলের ঘেরিতে বাজি বিস্ফোরণের জেরে গতকাল ৪ শিশু সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিস দেয়নি বাজি তৈরির। বেআইনিভাবেই চলছিল বাজি তৈরি ও মজুত রাখার ব্যবসা। এমনটাই রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ওদিকে আরও জানা গিয়েছে, ২ সপ্তাহ আগে, গত ২৪ মার্চ মহেশতলাতে বাজি নিরাপত্তা বিধি নিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ধৃত ব্যবসায়ী চন্দ্রকান্ত বণিক। রাজ্য সরকারের উদ্যোগেই মহেশতলাতে বাজি নিরাপত্তা বিধি নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণে কীভাবে বাজি মজুত করে রাখতে হবে, কী কী নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে, সেইসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রায় ৫০০ বাজি ব্যবসায়ী সেই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেয়। যারমধ্যে ছিলেন চন্দ্রকান্তও।
জানা গিয়েছে, চন্দ্রকান্ত বণিক প্রথম দিকে চাষের কাজ করতেন। পরিবারের সবাই বরাবর-ই চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখনও চন্দ্রকান্তের পরিবারের কাকা, জ্যাঠা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চাষবাস করেন। মাঝেমধ্যে পুজোর জন্য চন্দ্রকান্ত প্রথম দিকে বাজি কিনে এনে বিক্রি করতেন। বেআইনিভাবে এই বাজি বিক্রির কারণে তিনি গ্রেফতারও হয়েছেন ঢোলা থানাতে। পরবর্তীকালে সময়ের সাথে বাজি বিক্রির কৌশল বদলে বাজি তৈরির কারখানা করে ফেলেন। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে চাষের জমিতে তৈরি করেন বাজি কারখানার ঘর। যেখানে বেশ কিছু মানুষজনকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজি তৈরি করা হত। বাজি তৈরি করার পর নিজের বাড়িতেই মজুত রাখতেন চন্দ্রকান্ত। সময়ের সাথে সাথে ব্যবসা ভালো-ই ফুলেফেঁপে ওঠে। বড় হয়ে ওঠে ব্যবসা।
পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের লোকজনও এভাবে বাজি তৈরি ও মজুত করার বিষয়ে বার বার বারণ করেন। এনিয়ে বিবাদেও জড়ান চন্দ্রকান্ত। কিন্তু কারও কথাতেই কোনও কর্ণপাত করেননি চন্দ্রকান্ত বণিক। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর লাইসেন্স আছে, যেখানে বাজি তৈরি করার কোনও লাইসেন্স-ই ছিল না চন্দ্রকান্তর। গতকাল বিস্ফোরণ ও তার জেরে ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আজও থমথমে পাথরপ্রতিমা। নিজের চোখের সামনে বাজির আগুনে পুড়তে দেখেছেন নাতি-বউমাদের। বাঁচাতে দিয়েও বাঁচাতে পারেননি কাকা প্রদীপ বণিক। তাঁর চোখের সামনেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু।
চোখের জল বাঁধ মানছে না কাকা প্রদীপ বণিকের। বাজি বিস্ফোরণের পর আগুন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগের থাকার কারণে পুরো বাড়িটিতে 'কারেন্ট' হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘরের মধ্যে ঢুকতে পারেনি কেউ-ই। প্রদীপ বণিক জানান, "দাদা বাড়ির বাইরে ছিল যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে। নাতিদের উদ্ধার করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেউ আর আমরা ঘরের মধ্যে ঢুকতে পারিনি। কাকা বাঁচাও বাঁচাও বলে বউমাদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। চোখের সামনে এভাবে আটটি প্রাণ বাজি বিস্ফোরণে পুরোপুরি নিভে গেল।"