• ‘‌ইচ্ছা করেও আগুন লাগাতে পারে’‌, পাথরপ্রতিমার অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা
    হিন্দুস্তান টাইমস | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • পাথরপ্রতিমা বিস্ফোরণ নিয়ে যখন রাজ্য–রাজনীতি উত্তাল তখন বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাথরপ্রতিমায় যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাই সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুললেন সচেতনতার প্রসঙ্গ। এক জায়গায় কেন রান্নার গ্যাস আর বাজি থাকবে?‌ সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই বিস্ফোরণে শিশু–সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই বাজির ব্যবসা করতে গিয়ে অনেকে নিয়ম মানছেন না বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এদিকে একদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয়েছিল, আসলে কেমন করে আগুন লেগেছে সেটা এখনও স্পষ্ট হয়নি। আগে বাজি থেকে আগুন লেগেছে আর তা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেছে, নাকি গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগে যায় ওই মজুত রাখা বাজিতে এবং বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌বারবার বলা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। একই জায়গায় দাহ্য পদার্থ রাখলে যেকোনও সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। সাবধান হোন আপনারা। দুর্ঘটনায় একটিও প্রাণ যাওয়া কাম্য নয়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসের এই সময়টায় আগুন লাগার প্রবণতা বাড়ে। খারাপ লাগছে এই ভেবে একটা গোটা পরিবার শেষ হয়ে গেল।’‌


    অন্যদিকে এই ধরণের আগুন লাগার পিছনে অনেক সময় একটা ইনটেশন কাজ করে থাকে। এদিন সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘ইচ্ছা করেও আগুন লাগাতে পারে, বিমার টাকা পাওয়ার জন্য। সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডার আর বাজি কি একসঙ্গে থাকা উচিত? এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত সকলের। এক জায়গায় দাহ্য পদার্থ রাখলে যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সরকার সবরকমভাবে প্রস্তুত এই ধরনের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে। যে কাণ্ড ঘটেছে সেটা দুঃখজনক। কিন্ত ব্যবসায়ী লাইসেন্স হোল্ডার ছিলেন। বাজি ও রান্নার গ্যাস কোনও সময় একসঙ্গে থাকে? এটা থাকা উচিত? বাড়িতে গ্যাস সামলে রাখবে না। একটা ঘটনায় পরিবারের সবাই মারা গেলেন। খুব দুঃখজনক।’‌

    এছাড়া প্লাস্টিক গোডাউনের আগুল লাগা নিয়েও মানুষকে সচেতন থাকতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘প্লাস্টিক গোডাউনে কিছু রেখে দেবে আর সেখান থেকে আগুন লাগবে। এক জায়গায় অনেক দাহ্যপদার্থ রাখলে যে কোনওদিন অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। আপনারা সাবধান হন। কারও পরিবারে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে যাতে একজনও মারা যায়।’‌
  • Link to this news (হিন্দুস্তান টাইমস)