নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেখানে একেবারে বিস্ফোরক প্রসঙ্গ তুললেন তিনি। তিনি বলেন, বিদেশে গিয়ে আমাকে প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে আমি হিন্দু কি না! আমি কেন এই প্রশ্নের উত্তর দেব বিজেপিকে? রটিয়ে দেওয়া হল আমি নাকি পদত্যাগ করেছি! আর কত ভুয়ো খবর ছড়াবে। আমরা এফআইআরও করেছি। এর আগে বাংলাদেশের ভিডিয়ো দেখিয়ে মুর্শিদাবাদের বলে চালিয়েছে। দাবি মমতার।
মুখ্য়মন্ত্রী জানিয়েছেন, অশান্তিতে উসকানি দিতেই এই ধরনের ভুয়ো ভিডিয়ো ও খবর ছড়ানো হচ্ছে। কার্যত বামেদের নিশানা করে তিনি বলেন, যত এসব করবেন শূন্য থেকে মহাশূ্ন্য়ে বিলীন হয়ে যাবেন।
মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, আমি একটা ব্যাপারে শঙ্কিত দুঃখিত ও মর্মাহত। সোসাইটির অর্থনৈতিক প্যারামিটার হল গরিব মানুষরা যাতে ন্যায্য়মূল্যে যাতে ন্যায্য় জিনিস পান। সোসাইটির অর্থনৈতিক প্যারামিটার হল খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান ও এখন স্বাস্থ্য়। স্বাস্থ্য়ই সম্পদ আজকের দিনে। যার জন্য আমরা স্বাস্থ্য সাথী, জেনেরিক মেডিসিন, ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ সবটাই করেছি। নবান্ন থেকে একথা বলছি কারণ সরকারের স্বাস্থ্য় বিভাগটাও দেখি। ফ্রি টিটমেন্ট করতে গিয়ে আমাদের প্রচুর খরচ হয়। …ইদানিং আমরা লক্ষ্য় করছি স্বাস্থ্য় বিমাতেও জিএসটি যোগ করেছে। স্বাস্থ্য়ের উপর বাধা নিষেধ করে জিএসটি প্রয়োগ করা উচিত নয়। গরিব লোকের সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
মমতা বলেন, জুমলা পার্টির একটাই কাজ বিভাজন করো। সংবিধানকে আগে শ্রদ্ধা করো। …ধর্ম যার যার উৎসব সবার। পরিস্কার বলছি শ্রীকৃষ্ণের বানীও শুনি, স্বামী বিবেকানন্দও পড়ি, নেতাজিও পড়ি…আম্বেদকরও পড়ি, রামকৃষ্ণদেবও পড়ি। একই কথা কর্ম যার ধর্ম যার। …
তিনি বলেন, ‘আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। আমায় বিদেশে গেলে কেন প্রশ্ন করবে, আর ইউ এ হিন্দু? হু আর দে? আমি কি বলতে বাধ্য় বিজেপিকে! কালকে তো ছেড়ে দিয়েছে আমি নাকি রেজিগনেশন করেছিলাম। কত আর ফেক চলবে। ফেক আর ফেক। আমরা এফআইআর করেছি। যা তা করে বেড়াচ্ছে। কয়েকটা ডিজিটালকে টাকা দিয়ে। সবাই নয়। আমায় দশটা গালাগালি দিন আমার গায়ে ফোস্কা পড়বে না। আমি হ্যাবিচুয়েটেড হয়ে গিয়েছি। কিন্তু প্রতিদিন মিথ্যে কথা বলছেন। ফেক ভিডিয়ো করছেন। …বাংলাদেশের ভিডিয়োকে বাংলার বলে দেখিয়েছিল, গুজরাট রাজস্থানের ভিডিয়ো বলে বাংলার বলে দেখিয়েছিল।’