এখন শিশুদের উপরও যৌন নিগ্রহ হচ্ছে। আর সেটা উত্তরোত্তর বেড়েছে। নানা সময় এমন অভিযোগ থানায় এসে থাকে। সংবাদে জায়গা করে নেয়। এই কারণে বেসরকারি স্কুলগুলি এখন ‘গুড অ্যান্ড ব্যাড টাচ’ শেখানো হচ্ছে। এই পাঠ পেয়ে সতর্ক হচ্ছে শিশু পড়ুয়ারা। তাদের অভিভাবকরাও জানেন এই পাঠ স্কুল থেকে পাচ্ছে ছেলে–মেয়েরা। যা নিজেকে সুরক্ষিত রাখার একটা কৌশল। এবার কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত স্কুলগুলি পাঠ দেবে ‘গুড টাচ’ অ্যান্ড ‘ব্যাড টাচ’ নিয়ে। কোন স্পর্শ ভাল এবং কোন স্পর্শ খারাপ সেটা যেমন জানানো হবে তেমনই কেমন স্পর্শকে যৌন নিগ্রহ বা শ্লীলতাহানি বোঝায় তারও পাঠ দেওয়া হবে।
কলকাতা পুরসভার নানা স্কুলে এখন এই পাঠ দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। এই পাঠ দেওয়ার জন্য বিশেষ পাঠ্যক্রম এবং পাঠ দেওয়ার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। ডিজিটাল ব্যবস্থার সেক্ষেত্রে সহযোগিতা নেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভার বাজেটে শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে যে নথি রয়েছে তাতে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাতে বলা হয়েছে, ‘শিশু সুরক্ষা নির্দেশিকা’ এবং ‘স্কুলে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার নির্দেশিকা’ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। তার জন্য শিক্ষক–শিক্ষিকাদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হবে। তাই আইটি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত স্কুলগুলিতে গরিব অথবা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরাই লেখাপড়া করতে আসে।
এই গরিব অথবা নিম্নবিত্ত পড়ুয়াদের মধ্যেও এই পাঠ থাকলে কোনও খারাপ কাজ যেমন ঘটবে না তেমন নিজেদের সুরক্ষিতও রাখতে পারবে তারা। বেসরকারি বড় স্কুলের মতো পরিকাঠামো না থাকায় এতদিন এই গুড টাচ অ্যান্ড ব্যাড টাচের পাঠ দেওয়া যাচ্ছিল না। ধীরে ধীরে সেই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে অনেকগুলি পুর–স্কুলে। তাই এখন এই পাঠ দিতে চাইছে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত স্কুলগুলি। এখন পুরসভার একাধিক স্কুলে স্মার্ট ক্লাস গড়ে উঠেছে। বাচ্চাদের পড়াশোনার পদ্ধতিতেও বদল এসেছে। তাই নতুন করে এই গুড টাচ অ্যান্ড ব্যাড টাচ যুক্ত হতে চলেছে পাঠ্যক্রমে। সঙ্গে পাঠ দেওয়া হবে নারী ক্ষমতায়ন নিয়েও।
এছাড়া শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, আইটি বিভাগ সাহায্য করবে বিশেষ পাঠ পদ্ধতি তৈরি করার ক্ষেত্রে। এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেমন করে পড়ুয়াদের পড়ানো হবে সেটার জন্য একটা পদ্ধতি প্রয়োজন। তাই রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। শিশুরা যাতে সুরক্ষিত থাকে সেটাই প্রধান লক্ষ্য। কারণ এই শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই বাচ্চাদের আদর করার সুযোগ নিয়ে যৌন নিগ্রহ করার যে প্রবণতা খবরে আসে সেটা রুখতেই এইসব শেখানো হবে।’