‘ওষুধের দামবৃদ্ধি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আন্দোলনে নামার ডাক দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির সরকারকে দুষে মমতার তোপ, ‘আমি স্তম্ভিত।…মানুষ নিজের চিকিৎসা করবে কী ভাবে? আমি এটার তীব্র প্রতিবাদ করছি। এই দাম তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।’ আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল প্রতি ব্লকে বেলা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের প্রতিবাদে নামার ডাক দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
১ এপ্রিল থেকেই মোট ৭৪৮টি ওষুধের ‘এমআরপি’-র উপরে ১.৭৪ শতাংশ হারে দাম বৃদ্ধি করেছে ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি’ (NPPR)। সেই তালিকায় রয়েছে কাশি, সুগার, বাত, কৃমি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ঘুম, ভিটামিন, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সাধারণ ওষুধ। রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক-সহ বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেট, ইঞ্জেকশনও।
মমতার বক্তব্য, হার্ট সংক্রান্ত ওষুধের দাম বাড়িয়েছে ৩১.৮ শতাংশ। ব্লাড প্রেসারের দাম ১৯.২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক, কোলেস্টেরল-এর ওষুধের দামও। এমনকী ক্যান্সারের ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন মমতা।
ভোট (লোকসভা নির্বাচন) মেটার পরেই সুকৌশলে কেন্দ্রীয় সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে বলে এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আর কত টাকা পেলে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের জুমলাবাজি বন্ধ করবে।…কেন মেডিক্লেম-এ মানুষকে জিএসটি দিতে হবে? আমি কোনওভাবেই ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবং মেডিক্লেম-এ জিএসটি মেনে নেব না।’ তৃণমূলের সাংসদেরও ওষুধের দামবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে সরব হওয়ার নির্দেশ দেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পাল্টা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ১০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী পান বলে উনি দাবি করেন। রাজ্যের কাউকে ১ টাকা দিয়ে ওষুধ কোনটা হয় না। তা হলে ওঁর উদ্বেগের কি আছে?’