সচেতনতার অভাব থেকেই পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাটের ঘটনা বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সভাঘরে বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে উঠে এল ঢোলাহাটের বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। এক পরিবারের আট সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে বাজি রাখার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। গ্যাসটাকে তো সামলে রাখবেন।’ একইসঙ্গে গুজরাটের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের সঙ্গে বাংলার বণিক পরিবারের দুর্ঘটনার তুলনা টানায় বিরোধীদের তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রীর।
নবান্নে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে যা হয়েছে তা নিশ্চয় অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা মণিপুরে আগুন লাগলে থামান না। এখানে তো যেখানে হয়েছে, সে লাইলেন্স হোল্ডার। কিন্তু গুজরাটে যে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের লাইসেন্স ছিল না।’ অন্যদিকে, ঢোলাহাট কাণ্ডে বণিক পরিবারকেই দায়ী করলেন তিনি। বলেন, ‘নিজের বাড়িতে তো গ্যাসটাকে সামলে রাখবেন। যাঁরা রান্না করেন তারা তো জানেন। আমার খারাপ লাগছে একটি পরিবারের সকলে শেষ হয়ে গেল। বাড়িতে বাজি রাখার কী প্রয়োজন? বাজি ও গ্যাস সিলিন্ডার কি একসঙ্গে থাকে? না রাখা উচিত? আমি মনে করি, এর থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। এক জায়গায় দাহ্য পদার্থ রেখে দিলে প্রাণহানি হতে পারে। সকলেই সাবধান হন। মানুষের জীবন সব থেকে দামি।’
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাট থানার অন্তর্গত দক্ষিণ রায়পুরের ৩ নম্বর ঘেরিতে ঘরে মজুত রাখা বাজিতে ঘটে মৃত্যু হয় বাজি কারখানার পরিবারের আট সদস্যের। সেই প্রসঙ্গ টেনেই দাহ্য পদার্থ মজুত নিয়েও সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘বার বার বলা সত্ত্বেও, বেআইনি নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও প্লাস্টিক মজুত রাখছেন কেউ কেউ। হঠাৎ করে বিশাল আগুন লেগে গেল। তার পর গিয়ে দেখা গেল প্লাস্টিক ডাঁই করে রেখেছে। এক জায়গায় দাহ্য পদার্থ রেখে দিলেই অগ্নিকাণ্ড ঘটবে।’ একইসঙ্গে অনেকে যে ইচ্ছাকৃত ভাবে ইনসিওরেন্সের টাকা পেতে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটান তা মনে করিয়েও সাবধান করেন মুখ্যমন্ত্রী।