• বোম্বে-ব্লাড চাই বাংলাদেশে, বার্তা এলো জলপাইগুড়িতে
    এই সময় | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি

    একে প্রতিবেশী দেশ, তার উপর সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতির ঠিক নেই। এই অবস্থায় বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইন্টার সিটি ব্লাড ডোনেশন’–এর পক্ষ থেকে পাঠানো রিকুইজিশন অনুসারে বিরল বোম্বে গ্রুপের রক্ত পাঠানো নিয়ে সংশয়ে ‘নর্থবেঙ্গল নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ’ নামে জলপাইগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, গত বছর এই গ্রুপের রক্ত বাংলাদেশে পাঠাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন মুম্বইয়ের ব্লাড অর্গানাইজেশনের সদস্যরা। পরে বাংলাদেশ থেকে রোগীর লোকেরা মুম্বইতে এসে সরকারি নিয়ম মেনে রক্ত নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় ওই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে সেটাও একটা প্রশ্ন। তবে এই মুহুর্তে বাংলাদেশে ওই গ্রুপের রক্ত পাঠানো নিয়ে উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    জানা গিয়েছে, কিডনির রোগ নিয়ে গত জানুয়ারি মাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ৫৫ বছর বয়সি আলি হুসেন। তাঁর ডায়ালিসিস প্রয়োজন। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে রোগীর রক্তের গ্রুপ। রক্তাল্পতায় ভোগা ওই রোগীর জন্য বোম্বে গ্রুপের রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সে দেশে। তাই বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিলো জলপাইগুড়ির একটি সংগঠনের সঙ্গে। বাংলাদেশের ‘ইন্টার সিটি ব্লাড ডোনেশন’–এর সদস্য রাহাদুল ইসলাম জলপাইগুড়ির ‘নর্থবেঙ্গল নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ’কে জানিয়েছেন, এই গ্রুপের রক্তের অভাবে ইতিমধ্যেই এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং ওই রোগীকে বাঁচাতে গেলে হয় রক্তদাতাকে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে, নয়তো রক্ত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

    বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে রাহাদুলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে যোগাযোগে চেষ্টা হয়েছিলো ‘এই সময়’–এর তরফে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তবে জলপাইগুড়ির ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পম্পি সুত্রধর বলেন, ‘এটা একটা কঠিন কাজ। আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে। তার উপরে ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রক্তদাতা বা ডোনার পাঠানোরও প্রশ্ন ওঠে না।’ এর আগে মুম্বইয়ের ব্লাড অর্গানাইজেশনের সদস্যরা বাংলাদেশের এক রোগীর জন্য এই বিরল গ্রুপের রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাই ওই সংগঠনের সদস্য বিনয় শেট্টির সঙ্গেও কথা বলা হয়। কিন্তু তিনিও তাঁর অপারগতার কথা জানিয়েছেন।

    বিনয় জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে রক্ত পাঠানো মুশকিল। তবে ওই রোগীকে এখানে নিয়ে এসে কোনও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সাহায্য করা যেতে পারে। অথবা রোগীর আত্মীয়রা এখানে এসে রক্ত নিয়ে যেতে পারেন। যদিও সে ক্ষেত্রে ওই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিস (ডিজিএইচএস)–এর চিঠি প্রয়োজন। গত বছর ওই চিঠি–সহ বাংলাদেশের এক রোগীর আত্মীয়রা মুম্বইতে এসে রক্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং এ নিয়ে সরাসরি ভারত সরকারের একাধিক মন্ত্রকের সরকারি বিধিও মানতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা বোঝা যাচ্ছে না।

    স্বাস্থ্যভবনের এক কর্তা অবশ্য জানাচ্ছেন, জলপাইগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বাংলাদেশের ডিজিএইচএসের চিঠির প্রতিলিপি–সহ স্থানীয় সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এই রক্ত পাঠানোর জন্য আবেদন করতে হবে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলে। সেখান থেকেই রাজ্য সরকার যোগাযোগ করবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে। যাবতীয় সরকারি গাইডলাইন মেনে সব তরফের ছাড়পত্র পেলে একমাত্র তখনই এই কাজ সম্ভব। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে অভিবাসনের সময়ে যে সিকিউরিটি চেক–ইন হয়, এই রক্তের প্যাকেটকে সেই স্ক্যানিং–ও এড়িয়ে যেতে হবে। মেনে চলতে হবে নির্দিষ্ট তাপমাত্রাও। অন্যথায় নষ্ট হয়ে যাবে রক্তকণিকা।

  • Link to this news (এই সময়)