নারায়ণগড়ে এক মহিলাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ রিপোর্টে জানিয়েছে, ‘ধর্ষণ বা যৌন নিগ্রহের প্রমাণ মেলেনি।’ অন্যদিকে, কল্যাণী এইমস রিপোর্ট দিয়েছে, ‘মহিলার শরীরে এবং গোপনাঙ্গে একাধিক ক্ষত রয়েছে।’ দুই রিপোর্ট আলাদা হয় কী করে? কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ঘটনার তদন্তকারী অফিসারকে আগামী দিনে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত ৯ মার্চ রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় ব্লকের মকরামপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ‘মুচলেকা’ জমা দিতে আসা বিজেপি-র প্রাক্তন মহিলা কর্মীকে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ তোলা হয়। নির্যাতিতার স্বামী নারায়ণগড় থানায় রবিবার রাতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী-কে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনায় নির্যাতিতাকে প্রথমে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এবং পরে কল্যাণী এইমসে ভর্তি করা হয়।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ তাদের রিপোর্টে জানিয়ে দেয়, ধর্ষণ বা যৌন-নিগ্রহের প্রমাণ মেলেনি। অন্যদিকে, কল্যাণী এইমসের রিপোর্টে জানানো হয়, মহিলার শরীরে এবং গোপনাঙ্গে একাধিক ক্ষত বা আঘাত ছিল। এ নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয় নির্যাতিতার পরিবারের তরফে।
বুধবার এই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও কল্যাণী এইমসের রিপোর্ট আলাদা হলো কী করে? দু’জন ডাক্তারের চোখ কি তা হলে আলাদা?’ বিচারপতির সংযোজন, ‘কিছুই হয়নি এমনটা তো নয়! তা হলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের রিপোর্টে আঘাতের কোনও উল্লেখই নেই কেন?’ যদিও প্রশ্ন রয়েছে, বিষয়টি শারীরিক নির্যাতন না যৌন নির্যাতন? তবে মেদিনীপুর মেডিক্যালের রিপোর্টে শরীরে আঘাতের কোনও উল্লেখই করা হলো না কেন? তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি।
রাজ্যের কাছে আদালত জানতে চায়, ‘২ চিকিৎসকের বয়ান রেকর্ড করেছেন?’ উত্তরে রাজ্য জানায়, ‘মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকের বয়ান নেওয়া হয়েছে, কল্যাণী এইমসের চিকিৎসকের বয়ান এখনও নেওয়া হয়নি।’ আগামী মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।