ইঞ্জিন লাগানো বিছানা রাস্তায় চালিয়ে জোর বিপাকে পড়েছেন মুর্শিদাবাদের নবাব শেখ। চমকপ্রদ কিছু বানিয়ে ইচ্ছে ছিল ‘ভাইরাল’ হওয়ার। দেড় বছরের পরিশ্রম এবং ২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ‘বিছানা গাড়ি’ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ডোমকলের এই যুবক। কিন্তু বর্তমানে ভাইরাল হওয়ার গেরোয় পড়েছেন তিনি। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল সাময়িকভাবে বন্ধ। অন্যদিকে লাইসেন্সবিহীন ‘শখের গাড়ি’ বন্ধুর গুদামে তালাবন্দি।
ঝকঝকে পিচ রাস্তার উপর দিয়ে ছুটে চলেছে একটি আস্ত বিছানা। সেই ভিডিয়ো নিজের মোবাইলে দেখে ফেলেছেন অনেকেই। মুহূর্তের মধ্যে দেশ-বিদেশে নাম ছড়িয়ে গিয়েছে সেই নবাব শেখের। সেটাই চেয়েছিলেন তিনি। ডোমকল পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শম্ভুনগরের বাসিন্দা ২৭ বছরের নবাবের ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল, এমন কিছু করার, যা তাঁকে ভাইরাল করবে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই ‘বিছানা খাট’-এর কাজ শুরু হয়। তড়িঘড়ি শেষ করে ইদের দিন সেই চলন্ত খাট রাস্তায় নামাতেই মুহূর্তের মধ্যে তা ‘সুপার-ডুপার হিট’। ফেসবুকের পাতায় ভিডিয়ো আপলোড হতেই এখন পর্যন্ত (প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) ২৪ মিলিয়ন দর্শক তা দেখে ফেলেছেন। লাইকের সংখ্যা ২.৭৫ মিলিয়ন। তবে, বাংলাদেশের কয়েকজন যুবক তাঁর তোলা ওই ভিডিয়ো নিজেদের বলে দাবি করে কপিরাইট আইন ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছেন। নবাবের সমাজমাধ্যমের প্রোফাইল সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ওই গাড়িটি নিয়ে আরও কিছু চিন্তাভাবনা ছিল নবাবের। তিনি বলেন, ‘এটিতে ৮০০ সিসি-র ইঞ্জিন রয়েছে। রয়েছে পাঁচটি গিয়ার। তবে সিট বেল্ট নেই। সিট বেল্ট লাগাতে হবে। আরও ভাল ফিনিশিং দিতে হবে।’ কিন্তু গাড়িটিকে কি আর রাস্তায় নামাতে পারবেন? যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, ‘ভাইরাল ভিডিয়ো নজরে এসেছে। ওই যুবকের ওই গাড়ি রাস্তায় চললে কতটা নিরাপদ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাইসেন্স ছাড়া ওই গাড়ি পথে নেমে কোনও দুর্ঘটনা ঘটালে তার দায় কে নেবে? তাই রাস্তায় চালানোর ক্ষেত্রে এখন নিষেধ করা হয়েছে।’ ফলত, বিছানা-গাড়ি রাস্তায় নামানো বন্ধ। দুঃখ করে নবাব বললেন, ‘আমার আবিষ্কার করা চলন্ত খাটে বউ ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঘুরব, তা আর হলো না।’