• সিপিএমের পার্টি কংগ্রেসের সভাপতিমণ্ডলীতে মিনাক্ষী, তরুণদের অন্তর্ভুক্তি না হলে বৃদ্ধাশ্রম হবে দল, বার্তা কারাটের
    আনন্দবাজার | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হবে কি না সেই জল্পনা নিয়েই বাংলার প্রতিনিধিরা মাদুরাইয়ে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেসে পৌঁছেছেন। প্রথম দিনেই চমক হল তাঁকে ঘিরে। তিনি বঙ্গ সিপিএমের যুবনেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। পার্টি কংগ্রেস পরিচালনা করছে যে সভাপতিমণ্ডলী, তার অন্যতম সদস্য করা হয়েছে মিনাক্ষীকে। যার আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদায়ী পলিটব্যুরোর সদস্য তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে।

    সিপিএমে সাধারণ ভাবে ধারণা রয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নন এমন কাউকে এই ধরনের পরিচালনার জায়গায় বসানোর অর্থ সামগ্রিক ভাবে প্রতিনিধিদের বার্তা দেওয়া, তাঁকে নেতৃত্বে তুলে আনা হবে। সেই সূত্রেই অনেকে মনে করছেন, মিনাক্ষীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়া প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছে। সে কারণেই তাঁকে সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার অনেকের বক্তব্য, সব ক্ষেত্রেই যে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তেমন নয়। ফলে মিনাক্ষীকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হবেই, এখনই তা বলে দেওয়া যায় না। তবে মহম্মদ সেলিম-সহ বঙ্গ সিপিএমের একটা বড় অংশ মিনাক্ষীকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করতে চান, এ ব্যাপারে কোনও গোপনীয়তা নেই।

    বুধবার থেকে শুরু হয়েছে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেস। মাদুরাই শহর মিনাক্ষী মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। মঙ্গলবার বঙ্গ সিপিএমের প্রতিনিধিরা সম্মেলন স্থলে পৌঁছনোর পর তামিলনাড়ুর এক নেতা বাংলার এক নেতাকে বলেছিলেন, ‘‘আমাদের মাদুরাইকে লোকে চেনে মিনাক্ষী মন্দিরের শহর হিসাবে। আর আপনাদের রাজ্যের পার্টিও এখন মিনাক্ষীময়।’’ মিনাক্ষী মন্দিরের কারণেই মাদুরাই শহরে আমিষ খাবারের খুব একটা চল নেই। তবে সিপিএমের সম্মেলনে তেমন কোনও বিষয় নেই। মাছ-মাংস সবই থাকছে।

    সিপিএম পলিটব্যুরোর সমন্বয়ক প্রকাশ কারাট রাজনৈতিক খসড়া প্রতিবেদন এবং পর্যালোচনা রিপোর্ট পেশ করেছেন। দলীয় সূত্রে খবর, দলে তরুণ এবং মহিলাদেরদের অন্তর্ভুক্তির হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কারাট। সিপিএম সূত্রে এ-ও খবর, কারাট বলেছেন, দলে এখনই তরুণদের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করতে না-পারলে দল ক্রমশ বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হবে। যে যে রাজ্যে সিপিএমের সাংগঠনিক জোর রয়েছে, সেখানে তরুণ এবং মহিলাদের হার উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন কারাট। সিপিএম সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, কারাট রিপোর্ট পেশ করতে গিয়ে বলেছেন, পার্টি সদস্যপদে তরুণদের বৃদ্ধি করতে দলের ছাত্র, যুব এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের যে ভূমিকা থাকা উচিত, তা বহুলাংশেই দেখা যাচ্ছে না।

    সম্মেলনস্থল সেজে উঠেছে তামিল সংস্কৃতিতে। সম্মেলন হচ্ছে যে প্রেক্ষাগৃহে, তার প্রবেশ দরজার নামকরণ করা হয়েছে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে। সম্মেলনস্থলেই রয়েছে কার্ল মার্ক্সের পূর্ণাবয়ব এক মূর্তি। পায়ের উপর পা তোলা মার্ক্সের সেই মূর্তি বসানো একটি কাঠের চেয়ারে। হাতে মোড়ানো কমিউনিস্ট ইস্তাহার। সেই মার্ক্সের সঙ্গেই দেদার নিজস্বী তুলছেন প্রতিনিধিরা।

    দলীয় পতাকা উত্তোলন করে পার্টি কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রবীণ নেতা বিমান বসু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিআইএমএল লিবারেশনের দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আরএসপির মনোজ ভট্টাচার্য এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবরাজন। প্রত্যেকেই বাম ঐক্যের কথা বলেছেন। সিপিএম পলিটব্যুরোর সমন্বয়ক কারাটও বলেছেন, ‘‘বাম ঐক্য এখন সময়ের দাবি।’’ বৃহস্পতিবার প্রতিনিধিদের আলোচনা শুরু হবে। বাংলা থেকে বলবেন পলাশ দাস, দেবাশিস চক্রবর্তী, মোনালিসা সিংহ, সমন পাঠক, দেবু রায়, জাহানারা খান এবং সৈয়দ হোসেনরা।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)