রামনবমীর শোভাযাত্রা নিয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ বাহিনীকে
আনন্দবাজার | ০২ এপ্রিল ২০২৫
রামনবমীর শোভাযাত্রা নিয়ে আগেই কলকাতা পুলিশের থানাগুলিকে সতর্ক করেছিল লালবাজার। পুলিশকর্মীদের ওই দু’দিন সজাগ থাকতেও বলা হয়েছে লালবাজারের তরফে। এ বার যে সব রুট ধরে রামনবমীর শোভাযাত্রা যাবে, মঙ্গলবার সেগুলি ঘুরে দেখলেন কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্তা। মূলত শোভাযাত্রার পথগুলি ঘুরে দেখার পাশাপাশি পুলিশকে কী করতে হবে, সেই নির্দেশও দিয়েছেন নগরপাল। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রয়োজনে ওই দু’দিন পুলিশকর্মীদের ছুটি নিতেও বারণ করা হবে।
সূত্রের খবর, এ দিন দুপুরে নগরপাল প্রথমে যান এন্টালি থানা এলাকার রামলীলা ময়দানে। সেখান থেকে তিনি ট্যাংরা থানা এলাকার গোবিন্দ খটিক রোড, ক্রিস্টোফার রোড হয়ে তিলজলা, তপসিয়া, কসবা থানা এলাকার বিভিন্ন রাস্তা পরিদর্শন করেন। বিকেলে বন্দর এলাকার ওয়াটগঞ্জ, দক্ষিণ বন্দর এবং একবালপুর থানা এলাকায় শোভাযাত্রার বিভিন্ন রাস্তাও ঘুরে দেখেন। পরে নগরপাল জানান, যে যে রাস্তা দিয়ে রামনবমীর মিছিল যাবে, সেগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় থানাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে রামনবমীর শোভাযাত্রা হয়। সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে বেশ কয়েকটি শোভাযাত্রার আবেদন জমা পড়েছে বিভিন্ন থানা এবং লালবাজারে। যা কলকাতা পুলিশের কর্তারা খতিয়ে দেখে অনুমতি দেবেন বলে সূত্রের খবর। এর সঙ্গেই নির্ধারিত রুটের বাইরে যাতে শোভাযাত্রা না যেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে থানাগুলিকে।
লালবাজার জানিয়েছে, যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে কালবিলম্ব না করে ব্যবস্থা নিতে এবং সামান্য কোনও অশান্তির সূত্রপাত হলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে পুলিশকে। যাতে ওই ক্ষুদ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এর সঙ্গেই থানাগুলির পুরো বাহিনীকে রামনবমীর দু’দিন সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। থানায় পুরো পুলিশ বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। যাতে যে কোনও পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে। স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারির সঙ্গে সেখানে বাহিনীও মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে লালবাজার।
সূত্রের খবর, শোভাযাত্রার রুটে কোনও ধর্মীয় স্থান বা সংবেদনশীল এলাকা থাকলে সেগুলি চিহ্নিত করে সুরক্ষার জন্য থানাগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এর জন্য ধর্মীয় সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর সঙ্গেই শোভাযাত্রায় অস্ত্র-সহ বেআইনি কিছু দেখলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, শোভাযাত্রার রুটের পুরোটাই সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলতে বলা হয়েছে। যেখানে সিসি ক্যামেরার নজরদারি নেই, সেখানে অস্থায়ী ভাবে ক্যামেরা বসাতে বলা হয়েছে থানাগুলিকে। এ ছাড়া, সব শোভাযাত্রার ছবি ও ভিডিয়োগ্রাফি করতে বলা হয়েছে। এর জন্য ভাড়া করে চিত্রগ্রাহকও নিতে বলা হয়েছে। যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পুরোটাই ক্যামেরাবন্দি করা যায়। কারণ হিসাবে পুলিশের একাংশ জানাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে শোভাযাত্রা নিয়ে কোনও মামলা হলে ওই ভিডিয়োগ্রাফি এবং সিসিটিভির ফুটেজ তদন্তের কাজে লাগবে।
লালবাজার জানিয়েছে, রামনবমীকে কেন্দ্র করে উস্কানিমূলক আচরণ দেখা গেলে বা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলে সঙ্গে সঙ্গে তার উপরে নজরদারি চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে হাওড়ার শ্যামপুরে গুজব এবং উস্কানি ছড়িয়ে গোলমাল পাকানোর চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কলকাতায় যাতে তেমন কিছু না হয়, তার জন্য নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশকর্তারা।