• জেলা শাসকের শোবার ঘরে একাধিক সাপের উপদ্রব ঘিরে চাঞ্চল্য!
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • জেলাশাসকের দপ্তরে সাপের উপদ্রব। তাও আবার একটি দুইটি নয়, আটটি বিষধর সাপ উদ্ধার। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহে। রাতে এখানকার অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকারের বেডরুমে এসি চালাতেই বেরিয়ে আসে একাধিক সাপ। যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পরিবারে। কিন্তু অতিরিক্ত জেলাশাসকের ঘরে কীভাবে এই সাপ এল? তাই নিয়ে রীতিমতো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রসঙ্গত মঙ্গল কাব্যে আমরা চাঁদ সওদাগর এবং বেহুলা-লখিন্দরের গল্প আমরা অনেক শুনেছি। পুত্র লখিন্দরকে সাপের হাত থেকে বাঁচাতে বিশ্বকর্মাকে দিয়ে নিশ্ছিদ্র ঘর তৈরি। তাতেই শেষরক্ষা হয়নি। কিন্তু বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির যুগে একজন জেলাশাসকের ঘরে সাপের হানা সত্যিই অবাক করার মতো ঘটনা। প্রশ্ন উঠছে একজন আইএএস আধিকারিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও।

    জানা গিয়েছে, ইংলিশবাজার শহরের মাধবনগর এলাকার সরকারি বাংলোতে সপরিবারে থাকেন মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অনিন্দ্য সরকার। গতকাল রাতে তিনি ঘুমানোর জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখনই ঘটে বিপত্তি। এসি চালাতেই বেরিয়ে আসে একাধিক সাপ। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের এক কোণায় চলে যান জেলাশাসক। দ্রুত খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরকে। তাঁদের সহযোগিতায় রাতেই সাপগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আরও সাপ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সর্প বিষারদ নিতাই হালদার বনদপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে রাতেই ওই বাড়িতে যান। উদ্ধার হওয়া আটটি সাপের নাম বাতাচিতি। মূলত ঠান্ডা জায়গা পাওয়ার কারণেই ওই সাপগুলি এসির মধ্যে বাসা বেঁধেছিল। শীতকালে সেগুলি বাসা বেঁধে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

    অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার বলেন, চৈত্রের গরমে এদিন শোবার ঘরের এসিটা চালাতে শুরু করেছিলাম। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। কিলবিল করে একের পর এক সাপ বেরিয়ে আসে। যা দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এতগুলো সাপ কীভাবে এসির মধ্যে ঢুকে পড়ল, কিছুই বুঝতে পারছি না। যথা সময়ে বনদপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে একজন সর্প বিষারদ বাংলোতে এসে সাপগুলি উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছেন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)