ব্যক্তিগত আক্রোশেই মদের আসরে বেলঘরিয়ার তৃণমূল কর্মীকে খুন! আটক ৩
প্রতিদিন | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
অর্ণব দাস, বারাকপুর: ব্যক্তিগত আক্রোশেই বেলঘরিয়ার তৃণমূল কর্মীকে খুন! ইতিমধ্যে তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। সূত্রের দাবি, মদের আসরে তাকে খুন করা হয়েছে। বেলঘরিয়া থানার অন্তর্গত কামারহাটি পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণ নগর ক্যানাল রোডের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি মাথায় লেগে নিহত হন কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী আনায়াতুল্লাহ ওরফে রোহান। মঙ্গলবার রাতভর তাঁর রক্তাক্ত দেহ পরে ছিল ঘটনাস্থলে। বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সাউথ) অনুপন সিং জানিয়েছেন, “দেহ যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে সেখানেই খুন হয়েছে বলে অনুমান। ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে। রাত ১১টার পরেও পরিবারের সঙ্গে নিহতের কথা হয়েছে। সকালে সাড়ে পাঁচটায় মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মাঝেই খুন হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই এই ঘটনা। মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।”
এনিয়ে নিহতের মা সুশান্ত নামে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ছেলের ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর এদিন সকালে শুনি এই ঘটনা। এর আগেও সুশান্তর দলবল ছেলের উপর হামলা চালিয়েছিল। তখন চিকিৎসা করিয়ে ছেলেকে বাঁচিয়েছিলাম। কিন্তু এবার আর পারলাম না।” ঘটনাস্থল সংলগ্ন রাতের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে। তাতে রোহনের সঙ্গে চারজনকে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছে। পরে বাকিদের ফেরত যেতে দেখা গেলেও রোহনকে আর দেখা যায়নি। সেই ফুটেজের সূত্র ধরেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি কেনাবেচা সহ প্রমোটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রোহন। এই সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই মদের আসরে আনুমানিক রাত বারোটা সাড়ে বারোটা নাগাদ তৃণমূল কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলেই প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগে ভর সন্ধ্যায় কামারহাটি পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেলঘড়িয়ার ৪ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছিলেন কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী বিকাশ সিং সহ এক সাধারণ নাগরিক। তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছিল সেই ঘটনায়। ফের বেলঘরিয়াতেই শুটআউটে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা জানিয়েছেন, পুলিশ যথেষ্ট তৎপর। ঘটনার পরপরই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তিনজনকে আটক করেছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।