• পালানোর আগে প্রেমিকের সঙ্গে ফটোশুট, নাবালিকার বিয়ে আটকালেন জেলা পরিষদের সদস্য
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নয়া ট্রেন্ড ফটোশুট। বিয়ের আগে, বিয়ের সময়, বিয়ের পরে ফটোশুট লেগেই থাকে। তা বলে প্রেমিকের হাতে ধরে পালিয়ে যাওয়ার আগেও নাবালিকার ফটোশুট? তেমনই ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলাতে। যদিও শেষ পর্যন্ত পিংলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সদস্যের তৎপরতায় ধরা পড়ে যায় সেই যুগল। জেলা পরিষদের সভাধিপতির হস্তক্ষেপে পুলিশ ওই নাবালিকাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। মেয়েকে ফিরে পেয়ে খুশি নাবালিকার বাবা-মা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাইকে চেপে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন পিংলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য শেখ সবেরাতি। তিনি পিংলা থানা এলাকার এগারোমাইল থেকে ধনেশ্বরপুর যাওয়ার পথে লক্ষ্য করেন এক যুগল রাস্তার ধারে ফটোশুট করছে। তাদের হাতে ফুল রয়েছে। এক যুবক তাদের ফটো তুলে দিচ্ছে। প্রথমে সেই বিষয়ে বিশেষ আমল দেননি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি। নিজের কাজে চলে যান। 

    বেশ কয়েক ঘণ্টা পর নিজের কাজ শেষ করে ফেরার পথেও তিনি দেখেন প্রায় একই জায়গায় ফটোশুট চলছে। তখনই সন্দেহ হয় তাঁর। নিজের বাইক থামিয়ে দেন। ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। সন্দেহ হওয়ায় তাদের স্থানীয় একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জানতে পারেন, নাবলিকার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থানা এলাকায়। আর প্রেমিকের বাড়ি মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন এলাকায়। দু’জনই মঙ্গলবার সকালে মিথ্যে কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। 

    বুধবার সবেরাতি বলেন, ‘ওদের কথা শুনে হয় দু’জনের পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল। আর তার আগে ওদের এক ফটোগ্রাফার বন্ধুকে ডেকে ফটোশুট করছিল।’ স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘ওদের কাছে ওটাই হয়তো ছিল প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট!’ এর পরেই ব্লক তৃণমূলের সভপতি সেখ সবেরাতি পিংলা থানা এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতিকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান। প্রতিভা মাইতির হস্তক্ষেপে এবং পুলিশের মধ্যস্থতায় দুই পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী তথা নাবালিকার পরিবারের লোকজন জানান, মেয়ে টিউশনের নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তবে, মেয়েকে ফিরে পেয়ে তাঁরা খুশি। 

    জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের জেলায় নাবালিকাদের বিবাহ এবং তাদের গর্ভধারণের সংখ্যাটা চলতি বছরেও প্রায় দশ হাজার। তা নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। সেই সঙ্গে এই সংখ্যাটা কমানোর জন্য আমরা তৎপর।’ তাঁর দাবি, স্বয়ং জেলাশাসকের নেতৃত্বে জেলা জুড়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলছে। তা সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। জেলা পরিষদের সদস্যের তৎপরতায় ওই নাবালিকাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)