মঙ্গলবার রাতে মুকুন্দপুরের বন্ধ ফ্ল্যাটের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় বয়স্ক দম্পতির ঝুলন্ত দেহ। দম্পতির মেয়ে দাবি করেছিলেন, ছেলে এবং বৌমা অকথ্য অত্যাচার চালাত দু’জনের উপর। এ বার ওই বাড়ি থেকে দু’টি সুইসাইড নোট উদ্ধার করল পুলিশ। দু’টিতেই মৃত্যুর জন্য ছেলে এবং বৌমাকে দায়ী করেছেন ওই মৃত দম্পতি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পূর্ব যাদবপুর থানায় দম্পতির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁদের কন্যা সঙ্গীতা সেনাপতি।
মুকুন্দপুরের ওই ফ্ল্যাটে নিজের সৌরভ পাল ও বৌমা কল্যাণী পালের সঙ্গে থাকতেন ওই দম্পতি। ওই ফ্ল্যাটের ডাইনিং হল থেকে উদ্ধার হয় ৬৬ বছরের দুলাল পালের ঝুলন্ত দেহ। তাঁর স্ত্রী ৫৩ বছরের রেখা পালের দেহ পাওয়া যায় ফ্ল্যাটের ভিতরের বেডরুম থেকে।
প্রতিবেশীদের দাবি, সোমবার সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই সৌরভ ও কল্যাণী অফিসে বেরিয়ে যান। সন্ধে পর্যন্ত বয়স্ক দম্পতির সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। এক প্রতিবেশী ফোন করলেও সাড়া মেলেনি বলে দাবি। এর পরেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
মৃত দম্পতির মেয়ে অভিযোগ করেন, নিত্যদিনই মা-বাবার উপর অত্যাচার করা হতো। তাঁর দাবি, ঠিকমতো বাবা-মাকে খাবার খেতে দেওয়া হত না। খাবার খেতে স্থানীয় একটি আশ্রমে যেতেন তাঁরা। এমনকী, মাসে মাসে যে টাকা বাবা-মাকে দেওয়ার কথা ছিল, ছেলে তা-ও দিতেন না।