খুব অত্যাচার! ‘ছেলে বৌমা দায়ী’ মৃত্যুর আগে নোট মুকুন্দপুরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধার
হিন্দুস্তান টাইমস | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
পূর্ব যাদবপুরে অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। মুকুন্দপুরে বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে বৃদ্ধ দম্পতির নিথর দেহ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে ওই বাড়ি থেকে দুটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ।কী আছে সেই নোটে?
সূত্রের খবর, দুটি নোটেই কার্যত ছেলে বৌমাকে দায়ী করা হয়েছে। এমনকী আগেও তাঁরা আত্মীয়দের বলতেন এই অত্যাচারের কথা। তবে কি সেই অত্যাচারের জেরেই এই ভয়াবহ পরিণতি হল দুজনের?
সূত্রের খবর, ফ্ল্যাটের ডাইনিং রুমের সিলিং থেকে ঝুলছিল বৃদ্ধের দেহ। আর শোয়ার ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মেলে বৃদ্ধার দেহ। মৃত বৃদ্ধের নাম দুলাল পাল ও তাঁর মৃত স্ত্রীর নাম রেখা পাল। মঙ্গলবার রাতে ফ্ল্যাটের দুটি আলাদা ঘর থেকে তাঁদের দেহ মেলে। তাঁদের আত্মীয়দের দাবি, ছেলে বৌমা যে অত্যাচার করতে সেটা আগেও বলেছিলেন দম্পতি। কার্যত বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই চলে গিয়েছিল দুজনের। তাঁদের পুত্রের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পরে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার বিয়ে করার পরে অশান্তি আরও বাড়তে থাকে।
ছেলে ও বৌমা দুজনেই চাকরি করেন। মঙ্গলবার রাতে তাঁরা বাড়িতে ছিলেন না। দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। তবে রেখার দিদির মেয়ের দাবি দাদা ও বৌদি মিলেই বাবা মাকে মেরে ফেলেছে। তবে পুলিশ গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও আত্মহত্যার দিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন এই অবসাদ?
পুলিশ খতিয়ে দেখছে এটা আত্মহত্যা নাকি খুনের ঘটনা?
তবে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দ্বিতীয়ত সেই সময় ছেলে বৌমা বাড়িতে ছিলেন না। তবে সকালের দিকে তাঁরা অত্যাচার করেছিলেন কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আত্মীয়দের দাবি বৃদ্ধা বাবা মাকে মারধর করতেন ছেলে ও বৌমা। মাসে যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল সেটাও দিতেন না। কাছের একটা আশ্রমে গিয়ে কোনও রকমে খেতেন তাঁরা। এমনটাই দাবি করেছেন আত্মীয়রা।
এদিকে পুলিশ ছেলে বৌমার সঙ্গে কথা বলছে। সৌরভের দ্বিতীয়বার বিয়ে হওয়ার পর থেকেই অত্যাচার বাড়তে থাকে। বাবা মাকে পেটাত ধরে। মাসে চার হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটাও দিত না। আশ্রমে গিয়ে কোনওরকম খেতেন তারা। ছেলে বৌমা দুজনেই চাকরি করেন। কিন্তু বাবা মায়ের প্রতি ভয়াবহ ব্যবহার করতেন অভিযোগ এমনটাই।