বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বেলুড় মঠেও দরগা আছে। এর পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বেলুড় মঠের কোথায় দরগা আছে? আর সেই দরগার সন্ধানে সন্ধ্যায় এই অঞ্চলে পৌঁছাল HT বাংলা।
বেলুড় মঠের গঙ্গার ঘাটে নেমে সোজা বেরোনোর রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে কয়েক মিটার হাঁটলেই ডানহাতে চলে গিয়েছে অন্য একটি পথ। স্থানীয়দের থেকে জানা গেল, এই পথ ধরে কিছু দূর এগোলেই রয়েছে একটি মাজার। স্থানীয়রা তেমনই জানালেন। তাঁদের কথা মতো সেই পথে আরও মিটার খানেক হাঁটতেই চোখে পড়ল ‘বরকন গাজী পীরের দরগাহ’। বহু দিনের পুরনো কাঠামো। যদিও এখন বাইরের দেওয়ালে টালি বসানো হয়েছে। সামনে স্টিল রডের গেট। নবনির্মিত পাঁচিল। তবে ভিতরে ঢুকলে এখনও দেখতে পাওয়া যায়, পুরনো কাঠামোটি।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বহু বছর ধরেই এখানে রয়েছে এই ধর্মস্থানটি। স্থানীয় বাসিন্দা অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়ের বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। তাঁর কথায়, ‘এই ধর্মস্থানটিতে এখানে রয়েছে বহু বছর ধরেই। আমার জন্মেরও অনেক আগে থেকেই। ছোট থেকেই দেখছি। এটি নিয়ে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই।’ তবে অন্য একটি প্রশ্ন কেউ কেউ তুলেছেন। এই ধর্মস্থানের গায়ে এখন লেখা আছে দরগা। হালে এটি লিখে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও তাই বলেছেন। কিন্তু আদতে এটি ছিল মাজার।
সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হল, দরগা এবং মাজারের কি কোনও তফাৎ রয়েছে? প্রতীচী ট্রাস্ট’-এর ন্যাশনাল রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর, গবেষক সাবির আহমেদকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, ‘দরগাহ বলতে বোঝায়, পীরের আস্তানা। দরবেশ বা ধর্মীয় পুরুষের কবরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কঠামো। এই ধরনের জায়গা বহু ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছেই তীর্থকেন্দ্রের মর্যাদা পায়।’ মাজার কী? সাবির আহমেদের কথায়, ‘মাজার আর দরগার মধ্যে বিশেষ কোনও পার্থক্য নেই। আক্ষরিক অর্থে ধরতে গেলে একে জিয়ারতের স্থান বলা যেতে পারে। আসলে এটিও আউলিয়া বা দরবেশের সমাধিস্থল। এর কাছাকাছি মসজিদ থাকতে পারে।’ তাঁর কথা থেকে পরিষ্কার, মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তাতে কোনও ভুল নেই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেছেন, বেলুড় মঠের ভিতরে কোনও দরগা থাকতে পারে না। এই কথাটি অবশ্য সম্পূর্ণ ভুল, তাও বলা যাচ্ছে না। কারণ গঙ্গার ঘাট থেকে সোজা বেরিয়ে আসার পরে যে রাস্তা ধরে সোজা এই দরগায় পৌঁছোতে হয়, তার কোথাও মঠের ফটক পড়ে না। ফলে এটি মঠের এলাকার মধ্যে, এমন কথা বলা যাবে না। তবে এই দরগার চারপাশে ঘিরে রয়েছে বেলুড় মঠ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। স্থানীয়দের মতে, এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে বাংলার সর্বধর্ম সমন্বয়ের উদাহরণ হিসাবেই বেলুড়ে রয়েছে এই মাজার।