নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের বাড়িতেই শ্বাসরোধ করে নাবালিকাকে খুন করেছিল প্রেমিক রোহিত রায়। পরে তার নাবালক সহযোগীকে নিয়ে সজ্ঞাহীন অবস্থায় থাকা নাবালিকাকে গাড়িতে করে প্রথমে নিয়ে যাচ্ছিল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে। কিন্তু রাস্তায় যানজট থাকায় গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে আসে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে। নাবালিকাকে চ্যাংদোলা করে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিযুক্তের প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শীরা। যদিও অভিযুক্ত প্রথমে দাবি করেছিল, উত্তরকন্যার পাশে একটি জঙ্গলে মেয়েটিকে পেয়ে উদ্ধার করে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল সে। ধর্ষণ করে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
ধৃত রোহিতকে বুধবার জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। সঙ্গী নাবালককে জুভেনাইল আদালতে পাঠানো হয়। রোহিতকে পুলিস সাত দিনের হেফাজতে পেয়েছে। অন্য অভিযুক্তকে হোমে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, বুধবার বিকেলে শিলিগুড়ি পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতির্ময় কলোনিতে মূল অভিযুক্ত রোহিত রায়ের বাড়িতে এসে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক টিম।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা মূল অভিযুক্ত রোহিত রায়কে সাত দিনের হেফাজতে পেয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ধর্ষণ করে খুনের মামলা রুজু হয়েছে।
অভিযুক্ত রোহিতের প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী বাবলি মজুমদার বলেন, ছেলেটি নেশা করে। ওই নাবালিকার যাওয়া-আসা ছিল। ছ’মাস আগে মেয়েটিকে আটকে রেখে বাড়ির লোকদের ডেকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম। ঘটনার দিন রোহিত যখন মেয়েটিকে অচৈতন্য অবস্থায় ঘর থেকে বের করছিল তখন ওর মুখে আঁচড় দেখেছি। জিজ্ঞেস করায় বলেছিল মেয়েটা নেশা করে এসব করেছে। রোহিতের গাড়িতে একটা ছেলে ছিল। রোহিত জানিয়েছিল, মেয়েটার বাড়ি থেকে ফোন এসেছে তাই দ্রুত নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের খটকা লেগেছিল, কিন্তু এভাবে মেরে ফেলবে ভাবতে পারছি না।
উল্লেখ্য, চোদ্দ বছরের ওই নাবালিকার রহস্যমৃত্যু ঘিরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। যে গাড়িতে কিশোরীকে আনা হয়েছিল সেই গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়েছিল। গাড়িতে থাকা এক যুবক ও নাবালককে উত্তেজিত লোকজন মারধর করতেই পুলিস তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে রোহিত রায় ও নাবালককে গ্রেপ্তার করে। রোহিত মৃতার পরিবার ও পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে জানিয়েছিল, নাবালিকাকে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেছিল সে।
এদিকে, এদিন দুপুরে মিছিল করে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা এনজেপি থানা ঘেরাও করতে এলে পুলিস বাধা দেয়। এরপরেই তাঁরা থানার সামনের রাস্তা অবরোধ করেন। বিজেপির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী তর্পিতা সরকার বলেন, রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। আমরা দোষীর ফাঁসি চাই। একই কথা বলেন, মৃতার মা। তিনিও অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি করেছেন।