১০ কোটি টাকার মার্কেট কমপ্লেক্স, নেই শৌচালয়, জেলা পরিষদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা
বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: তিন বছরও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হল না ধূপগুড়ির মার্কেট কমপ্লেক্স। কারণ ১০ কোটি ব্যয়ে নির্মিত ভবনে নেই শৌচালয়। এই মার্কেট কমপ্লেক্স এখন ধূপগুড়ির অলিখিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড। মার্কেট কমপ্লেক্সের নীচ তলায় কয়েকটি স্টল খুললেও উপর তলা পুরোটাই ফাঁকা। নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় দিনরাতই ভবনে লোকজনের যাতায়াত চলে। তাই উপরতলায় যেখানে সেখানে চলছে মলমূত্র ত্যাগ। ফলে যে ক’জন ব্যবসায়ী স্টল খুলে পসরা সাজিয়েছেন তাঁরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। যদিও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এটি চালু করার আশ্বাস দিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ।
পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বলেন,আমরা ১০ কোটি টাকা খরচ করে ধূপগুড়িতে মার্কেট কমপ্লেক্স বানিয়েছি। তবে কিছু কারণে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে পারিনি। ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনায় বসব। আশা করছি, বিধানসভা ভোটের আগে মার্কেট কমপ্লেক্সটি পুরোমাত্রায় চালু হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে শৌচাগার, নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৭ সালে জেলা পরিষদ সুরেশ দে মার্কেট কমপ্লেক্সের (কর্মতীর্থ ভবন) নির্মাণ কাজ শুরু করে। শহরের মাঝে দ্বিতল ভবন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ভবনে আছে মোট ১০৩টি স্টল। ২০২১ সালে জেলা পরিষদ ব্যবসায়ীরদের হাতে স্টলের চাবিও তুলে দেয়। নিচের তলে স্টল নিয়ে কেউ দোকান কিংবা গোডাউন খুললেও উপরের স্টলে দোকান খোলার আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। তাঁদের দাবি, দ্বিতীয় তলে পরিকাঠামোর সমস্যা রয়েছে।
ব্যবসায়ী অমিত সরকার বলেন, মার্কেট কমপ্লেক্সের উপর যাওয়া যায় না। বহিরাগত লোকজন এসে যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে। আমরা নীচে দোকান খুললেও মাঝেমধ্যে দুর্গন্ধে বসে থাকতে পারি না। এমন পরিস্থিতি কেন? ব্যবসায়ী অভিজিৎ দাস বলেন, আসলে শৌচালয় করে দেওয়া হয়নি। যখন স্টল বণ্টন হয়েছিল তখন আমাদের বলা হয়েছিল নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু রক্ষী তো দূরের কথা, শৌচালয় পর্যন্ত নেই। বহিরাগতরা এসেও শৌচকাজ করে যাচ্ছে।
এত টাকার মার্কেট কমপ্লেক্সে তৈরি নিয়ে আগে থেকেই পরিষদের ঢিলেমির অভিযোগ আসছিল। এমনকী অভিযোগ ওঠে নির্মাণ কাজ নিয়ে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এতবড় মার্কেট কমপ্লেক্স অন্তত তিন-চারটি স্থানে টয়লেট ব্লক করা দরকার। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা বলেন, অতীতে ধূপগুড়িতে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওইসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মার্কেটে দমকলের ইঞ্জিন ঢোকার জন্য প্রশস্থ রাস্তা করার দরকার ছিল। সেটাও নেই। তাই ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন।