• বাড়ছে পর্যটক, বাংলা-সিকিমের মধ্যে আরও তিন হাজার গাড়িকে পারমিট
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পর্যটকের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। তাই বাংলা ও সিকিমের মধ্যে চলাচলের জন্য আরও তিন হাজার গাড়িকে পারমিট দেওয়া হবে। বুধবার শিলিগুড়িতে দুই রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের রেসিপ্রোকাল চুক্তি পুনর্নবীকরণ সভায় এমনই প্রস্তাব পেশ হয়েছে। একইসঙ্গে সিকিমে চালানো হবে ১০টি ইলেক্ট্রিক বাস। শীঘ্রই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে প্রতিবেশী দুই রাজ্যের সরকারের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন। এদিকে, গাড়ি বাড়ানোর প্রস্তাবে খুশি হলেও সিকিম সরকারের বিরুদ্ধে ভ্রমণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ট্যুরিস্ট গাড়ির চালকরা। 

    দু’বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে কন্ট্রাক্ট ও স্টেট ক্যারেজ যানবাহন চলাচল নিয়ে পারস্পরিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। বিভিন্ন মহলের দাবিতে সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে দুই রাজ্যই তৎপর। এজন্য এদিন শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউজে দুই রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের কর্তাদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে এ রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব সৌমিত্র মোহন, সিকিমের পরিবহণ দপ্তরের উপদেষ্টা তথা বিধায়ক মদন সিঞ্চুরি, সিকিমের কমিশনার তথা পরিবহণ সচিব রাজ যাদব হাজির ছিলেন। 

    রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বেশকিছু প্রস্তাব এসেছে। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছেই রিপোর্ট পাঠানো হবে। শীঘ্রই দুই রাজ্যের মধ্যে রেসিপ্রোকাল চুক্তি স্বাক্ষর হবে। মেয়র বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে চুক্তি সম্পাদিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। 

    প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট দুই রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের মধ্যে রেসিপ্রোকাল চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। সিকিমের কমিশনার তথা পরিবহণ সচিব বলেন, ২০২২ সালের চুক্তি অনুসারে কন্ট্রাক্ট ও স্টেট ক্যারেজে মিলিয়ে বাংলা থেকে সিকিমে তিন হাজার এবং সিকিম থেকে বাংলায় তিন হাজার গাড়ি চলাচল করছে। এখন পর্যটক বেড়েছে। সারা বছরই পাহাড়ে ভিড় থাকছে। তাই বিভিন্ন মহলের দাবি অনুসারে বাংলা ও সিকিম থেকে আরও ১৫০০টি গাড়ির পারমিট দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে বৈঠকে। প্রস্তাব কার্যকর হলে বাংলা থেকে সিকিমে ৪৫০০ এবং সিকিম থেকে বাংলায় ৪৫০০টি গাড়ি চলতে পারবে। 

    এদিকে, বাগডোগরা ট্যাক্সি ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মিলন সরকার বলেন, দুই রাজ্যের মধ্যে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাবে খুশি। কিন্তু পারমিট পাওয়া বাংলার ট্যুরিস্ট গাড়ি সেখানে অবাধে যাতায়াত করতে পারে না। অথচ সিকিমের গাড়ি এখানে অবাধে চলাচল করছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখা উচিত। সিকিম পরিবহণ দপ্তরের উপদেষ্টা অবশ্য বলেন, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে সর্বত্র সিকিমের গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হয় না। 

    সেই কারণে পর্যটক বৃদ্ধির সঙ্গে দু’তরফেই কিছুটা নমনীয় হওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)