নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: বৃদ্ধ খুনে অবশেষে গ্রেপ্তার পেশায় শিক্ষক ভাইপো। সোমবার রাতে রায়গঞ্জ শহরের কুমারডাঙ্গি এলাকায় রেললাইনে মদন সাহা নামে এক বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপরই খুনের অভিযোগে সরব হয় মৃতের পরিবার। শেষপর্যন্ত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার পুলিস মৃতের ভাইপো প্রসেনজিৎ সাহা ওরফে রানাকে গ্রেপ্তার করে। রায়গঞ্জ থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকারের বক্তব্য, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এদিন জেলা আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে খুন সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার বলেন, ধৃতকে বিচারক ৩ দিনের পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার মধ্যরাতে পেশায় ইটভাটার কর্মী মদন সাহার মৃতদেহ উদ্ধার হয় কুমারডাঙ্গি এলাকায় রেললাইন থেকে। পরে সেই দেহ শনাক্ত করে পরিবার। মৃত বৃদ্ধের মেয়ের দাবি, সোমবার রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে কোনও এক সময় রানা তাঁর বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তাঁর মদনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, মদনের দেহ রেললাইনে পড়ে রয়েছে।
মৃতের পরিবার জানিয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে রানার সঙ্গে মদনের বিবাদ ছিল দীর্ঘদিন ধরে। মৃতের মেয়ের কথায়, সেই বিবাদের জন্য আমাদের আত্মীয় রানা বাবাকে খুন করে রেললাইনে ফেলে দিয়ে এসেছে।
তাঁর বক্তব্য, প্রায় দিনই আমাদের সঙ্গে রানা এসে অহেতুক সম্পত্তি নিয়ে অশান্তি করতো। শরিকি পুকুরে ওকে ভাগ দিতে হবে বলে দাবি করতো। আমাদের মাঝেমধ্যেই শাসিয়ে যেত। এই বিবাদ নিয়ে আগেও অনেক হুলুস্থুল হয়েছে। সেই বিবাদের মধ্যস্থতাও হয়েছে। কিন্তু আমাদের পরিবারকে বরাবর রানার হুমকির মুখে পড়তে হতো। ওর বিরুদ্ধে আগেও অনেকবার পুলিসে নানা ধরনের অভিযোগ হয়েছে। কিন্তু তাতেও ও দমে থাকেনি।
অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে মৃতার পরিবার। যদিও অভিযুক্ত রানা আদালতে যাওয়ার পথে এদিন জানিয়েছে, ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি কাকাকে খুন করিনি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।