• পড়ুয়াদের সামনেই দুই শিক্ষকের হাতাহাতি, লাটে উঠল পড়াশোনা
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পড়ুয়াদের সামনেই দুই শিক্ষকের বাদানুবাদ গড়াল হাতাহাতিতে। লাটে উঠল পড়াশোনা। বুধবার বলরামপুর থানার মালতি শ্যামনগর নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলের এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসতে হয় পুলিসকে! ঝামেলার সূত্রপাত অবশ্য খুব সামান্য কারণ থেকেই। ওই স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের হাজিরা খাতা ও মিড ডে মিলের হিসেবপত্র আগলে রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারেকৃষ্ণ মাহাত। বুধবার সেই খাতাটিই চেয়ে বসেন সহকারী শিক্ষক বুদ্ধেশ্বর দাস। তাতেই নিজেদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বচসা। বচসা থেকে শুরু হয় হাতাহাতিতে। চুলের মুঠি ধরে একে অপরকে মারধর করেন। শিক্ষকদের এই কাণ্ডকারখানা দেখে তাজ্জব হয়ে যায় পড়ুয়ারা। ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে শিক্ষক মহলে। 

    স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দাবি, আমাদের মর্নিং স্কুল চালু হয়েছে। প্রতিদিন সাড়ে ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ক্লাস হয়। মিড ডে মিল থেকে শুরু করে হাজিরা খাতা আমিই দেখাশোনা করি। এদিন সহ শিক্ষক বুদ্ধেশ্বর আমার থেকে হঠাৎ করে হাজিরা খাতা চান। আমি তাঁকে বলি, হাজিরা খাতা নিতে গেলে সব কিছুর দায়িত্ব নিতে হবে। পড়ুয়াদের হিসেব করে খাওয়াতে হবে। এই নিয়েই দু’জনের কথা কাটাকাটি হয়। উনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তারপর আমাকে পড়ুয়াদের সামনেই মারধর করেন। 

    প্রধান শিক্ষকের আরও অভিযোগ, এতেও ক্ষান্ত হননি ওই শিক্ষক। এরপর তিনি গ্রামেরই কয়েকজন দুষ্কৃতীকে ডেকে নিয়ে আসেন। সেইসব দুষ্কৃতী আমার উপর চড়াও হয়। গলার টুঁটি চেপে ধরেন। এরপর আমি এসআই অফিসে খবর দিই। স্কুলে পুলিস এসে পৌঁছয়। আমি থানায় এনিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগও দায়ের করেছি। 

    যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বুদ্ধেশ্বরবাবু বলেন, আমি কেবল হাজিরা খাতাটিই চেয়েছিলাম। যাতে ক্লাসে গিয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হিসেব নিতে পারি। কিন্তু, খাতা চাইতেই যেন প্রধান শিক্ষকের গায়ে ফোস্কা পড়ে যায়। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। মারধর করেন। আমি এসআইকে বিষয়টি জানিয়েছি। 

    বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিড ডে মিল নিয়ে যখন অভিযোগ উঠেছে তখন তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্ত হলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। পড়ুয়াদের নিম্নমানের খাবার খাওয়ানো হয় বলেও অভিভাবকরা অভিযোগ তুলছেন। 

    যদিও প্রধান শিক্ষক বলেন, পড়ুয়া পিছু ৬টাকা ১৯ পয়সা বরাদ্দ হয়। তাতে কি প্রতিদিন মাছ, মাংস খাওয়ানো সম্ভব? বলরামপুর চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক সেবা মাহাত বলেন, এই ধরনের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)