• জঙ্গলে ঘাঁটি ৬৫টি হাতির, শুকনো পাতায় আগুন ধরালে কড়া ব্যবস্থা
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: বৃষ্টির দেখা নেই। কাঠ ফাটা রোদে শুকিয়ে রয়েছে গাছগাছালি। এই সময় জঙ্গলের শুকনো পাতায় আগুন লাগলে তা দাবানলের আকার নিচ্ছে। পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার বনভূমি। মৃত্যু হচ্ছে জঙ্গলের পশু পাখিরও। এই অবস্থায় বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগ এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা ৬৫টি হাতি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে বনদপ্তর। কোনও কারণে জঙ্গলে আগুন লাগলে হাতিগুলি বেরিয়ে পড়বে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা মুশকিল হবে বলে বনদপ্তরের আধিকারিকরা আশঙ্কা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তর প্রচার শুরু করতে চাইছে। তারপরেও কেউ জঙ্গলে আগুন লাগালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বনদপ্তরের আধিকারিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    বাঁকুড়া উত্তরের বিভাগীয় বনাধিকারিক দেবাশিস মহিমাপ্রসাদ প্রধান বলেন, বর্তমানে বড়জোড়া রেঞ্জ এলাকার জঙ্গলে ৬৩টি হাতির একটা দল রয়েছে। এছাড়াও দু’টি দলছুট হাতি আমাদের বনবিভাগের বিভিন্ন জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গলে আগুন লাগলে হাতিগুলি ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে লোকালয়েও হাতি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জঙ্গলে যাতে কেউ আগুন না লাগায় তারজন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। রেঞ্জাররা বিষয়টি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পাশাপাশি কড়া নজর রাখছেন। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগালে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, পাতা ঝরার মরশুমে প্রতি বছরই জঙ্গলে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। যার ফলে আশঙ্কা থাকে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার। গাছের ক্ষতির পাশাপাশি কীটপতঙ্গ ও বন্যপ্রাণীদেরও জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জঙ্গলে আগুন লাগানোর প্রবণতা রুখতে প্রতিবছরের মতো এবারও তৎপর হয়েছেন বনকর্তারা। 

    জেলার পাঞ্চেত বনবিভাগজুড়েও রয়েছে বিস্তীর্ণ বনভূমি। ঘন জঙ্গলে খরগোশ, বনবিড়াল, বনশুয়োর, শিয়াল, গো-সাপ, ময়ূর থেকে শুরু করে নানা বন্যপ্রাণীর ঘোরাফেরা তো আছেই, পাশাপাশি জয়পুরের জঙ্গলে হরিণেরও অবাধ বিচরণ রয়েছে। ওই বনবিভাগের বাঁকাদহ, জয়পুর ও বিষ্ণুপুর রেঞ্জ এলাকায় হাতির করিডর রয়েছে। সব দিক মাথায় রেখে সেখানেও জঙ্গলে আগুন ঠেকাতে বনদপ্তর তৎপর হয়েছে। জঙ্গলের পাশাপাশি শুশুনিয়া, বিহারিনাথ পাহাড়কেও দাবানলের হাত থেকে রক্ষা করতে বনদপ্তর নজরদারি শুরু করেছে।

    এক রেঞ্জার বলেন, জঙ্গলে আগুন লাগানো বন্ধ করা এবং বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যেই মানুষের কাছে সচেতনার বার্তা পৌঁছে দিতে আমরা তৎপর হয়েছি। তারজন্য প্রত্যেক রেঞ্জ এলাকাতেই বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে পদযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)