পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: টেন্ডার নিয়ে জটিলতা কাটাতে এবং প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি আনতে জেলা পরিষদের পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া। জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, বুধবার বিকালে সভাধিপতির চেম্বারে ওই বৈঠক হয়। এনিয়েই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ছুটির দিনে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কেন সভাধিপতির চেম্বারে বৈঠক করবেন, তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। বৈঠকের বিষয়টি অবশ্য স্বীকার করছেন জেলা সভাপতি। তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদের কাজকর্মে কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, প্রকল্পের কাজে কেন গতি নেই, সেই বিষয়টি নিয়ে বিশদে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি। সেই কারণেই সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসা।’ তবে, এতে বিতর্কের কিছু দেখছেন না তিনি। জেলা সভাপতির দাবি, ‘আলোচনার জন্য আমি তো জেলা পরিষদে যেতেই পারি। কয়েকটি রাস্তার ব্যাপারে আমার প্রস্তাব দেওয়ার ছিল, তাও দিয়েছি।’ যদিও বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, ‘জেলা পরিষদটা কি তৃণমূলের পার্টি অফিস নাকি? জেলা সভাপতির বৈঠক করার থাকলে পার্টি অফিসে করুন। জেলা পরিষদটাকে কেন উনি সেই কাজে ব্যবহার করবেন? তাও আবার ছুটির দিনে?’
জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের বৈঠকে ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত, সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সাতজন কর্মাধ্যক্ষ। স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ প্রতিমা সরেন এবং বিশেষ ব্যক্তিগত কারণে বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ জয়মল ভট্টাচার্য বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রসঙ্গত, অর্থবর্ষ শেষ হলেও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রাপ্য ৫০ কোটি ৬৭ লক্ষের মধ্যে প্রায় অর্ধেক টাকা খরচ করতে পারেনি পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। বৈঠক সূত্রের খবর, টাকা কেন খরচ হল না, তা জানতে চান জেলা সভাপতি। দেখা যায়, নেতাদের মনপসন্দ ঠিকাদাররা কাজ না পাওয়ার কারণে বহু প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। আবার এমনও হয়েছে যে, প্রায় ৫০টি প্রকল্পের কাজের জন্য একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও তাতে আগ্রহ দেখাননি কোনও ঠিকাদার। জেলা সভাপতি মানছেন, এরকম বহু প্রকল্পই আছে যেগুলির চারবার, পাঁচবার করে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল, কিন্তু কোনও ঠিকাদারই আগ্রহ দেখাননি। এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনও সদুত্তর মেলেনি। কেন এতবার করে টেন্ডার ডাকা সত্ত্বেও ঠিকাদাররা আগ্রহী হননি? ঠিকাদারদের একাংশের যুক্তি, নেতাদের মনের মতো ঠিকাদার কাজ না পেলেই সেই টেন্ডার বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।
তারপর একই প্রকল্পের জন্য ফের টেন্ডার ডাকা হচ্ছে। তাছাড়া, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের টেন্ডার ফর্মের দাম এমনিতেই অত্যধিক বেশি। প্রকল্পের খরচ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে টেন্ডার ফর্মের দাম পাঁচ হাজার টাকা, ২০ লাখের বেশি হলে ১০ হাজার টাকা, ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পের ফর্মের দাম ১৫ হাজার টাকা।
নেতাদের কথামতো তিনজন ঠিকাদার যখন নিজেদের মধ্যে আঁতাত করে টেন্ডার ড্রপ করছেন, তখন চতুর্থ কেউ কম টাকায় ওভার ড্রপ করে দিচ্ছেন। তাতে ক্ষতি হচ্ছে ঠিকাদারদেরই। তাই নেতাদের এই ঝামেলার মধ্যে না গিয়ে অনেকেই এই প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসছেন।
জেলা পরিষদের টেন্ডার কমিটির সদস্য অজিত বাউরি বলেন, ‘কয়েকজন নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিচ্ছেন। এটা কাম্য নয়। সব বাধা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে আমাদের।’ সূত্রের খবর, এই বিষয়েই আগামী শুক্রবার জেলার তিন বিধায়ক ব্লক সভাপতিকে নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে জেলা সভাপতির।