• তেহট্ট মহকুমায় মাদক কারবারে লাগাম, এক বছরে গ্রেপ্তার ৬৪
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্ট মহকুমায় গত মার্চ মাস থেকে এবছর মার্চ পর্যন্ত ৬৪ জন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রায় পাঁচ কেজি হেরোইন, ৪০ হাজার বোতলের উপর অবৈধ কাফ সিরাপ ও ৩৮৭ কেজি গাঁজা। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ৫০টি মামলা হয়েছে। এই তথ্য দিয়ে মহকুমা পুলিস আধিকারিক শুভতোষ সরকার বলেন, ‘নিয়মিত অভিযান চালানোর ফলে মাদক ব্যবসা অনেকটা কমানো গিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে।’ উপরের তথ্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে, গত এক বছরে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অভিযানে কতটা সাফল্য পেয়েছে পুলিস। তবে সম্পূর্ণ ভাবে মাদক ব্যবসা বন্ধ না করা গেলেও অনেকটাই কমানো গিয়েছে। 

    স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট, পলাশীপাড়া, মুরুটিয়া, হোগলবেড়িয়া, করিমপুর থানা এলাকায় মাদকের কারবার চলে। তার মধ্যে যেমন আছে হেরোইন, তেমনি ফেনসিডিল, গাঁজা সহ বিভিন্ন মাদক। মহকুমার ছ’টি থানার মধ্যে একমাত্র থানারপাড়া থানায় ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত কোনও মাদক কারবারি ধরা পড়েনি বা একটাও মামলা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পুলিস যেভাবে অভিযান চালাচ্ছে তাতে মাদক কারবারিরা সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু পুলিসের চাপে তারা ব্যবসার ধরন বদল করছে। অল্প দিনে বেশি টাকা পাওয়ার আশায় স্কুল শিক্ষক থেকে কলেজ পড়ুয়ারা পর্যন্ত এই কারবারে নামছে। ফলে মাদক কারবারিদের চিনতে অসুবিধা হচ্ছে পুলিসের। 

    পুলিস সুত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তেহট্ট থানায় মাদক সহ পাঁচটি গ্রেপ্তার হয়েছে। পলাশীপাড়ায় একই সময়ের মধ্যে পনেরটি, করিমপুরে পাঁচটি, হোগলবেড়িয়ায় ১৫টি। তবে মুরুটিয়া এলাকায় এই সময়ে দশটি মামলা হয়েছে। পুলিস মাদক ব্যবসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু মাদক কারবারিরা নতুন ভাবে ফিরে আসছে। যা পুলিসকে বার বার চ্যালেঞ্জে ফেলে দিচ্ছে। 

    স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট মহকুমার একদিকে বাংলাদেশ আরেক দিকে মুর্শিদাবাদ। তারমধ্যে মুরুটিয়া ও হোগলবেড়িয়া থানার বেশ কিছু অংশে কাঁটাতার নেই। তাই সহজে এই জায়গা দিয়ে মাদক পাচার করা যায়। ফেনসিডিল পার করা তো আরও সহজ। যে কোনও সময়ে ছুড়ে ওপারে ফেলে দিলেই হল। মুর্শিদাবাদ জেলা মাদক কারাবারিদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। ফলে পুলিস যখন অভিযান চালায় তখন এই মহকুমার মাদক কারবারিরা সহজেই মুর্শিদাবাদে পালিয়ে যায়। আবার এমনও দেখা গিয়েছে, বাবা-ছেলে মাদক ব্যবসায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাড়ির মহিলারা ব্যবসার হাল ধরেছে। ফলে প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়েও মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে পুলিস নিয়মিত অভিযান চালানোয় খুশি এলাকার বাসিন্দারা।
  • Link to this news (বর্তমান)