• কোর্টে শনাক্ত করতে পারলেন না দাদা, বেকসুর খালাস ভাই!
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুনের চেষ্টার এক মামলায় অভিযুক্ত ভাইকে এজলাসে শনাক্তই করতে পারলেন না অভিযোগকারী দাদা। শুধু তাই নয়, তিনি সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ওই ঘটনায় তিনি থানায় কী অভিযোগ করে ছিলেন, তা আর কিছুই মনে নেই তাঁর। ফলে পুলিসের কাছে একরকম অভিযোগ। আবার আদালতে এসে সেই দাদার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে অন্যরকম বক্তব্য‌ পেশ। সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর সৃষ্টি হওয়ায় অভিযুক্ত ভাইকে আদালত বেকসুর খালাস দিল। কলকাতার বিচারভবনের দায়রা আদালতের মন্তব্য, মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না-হওয়ায় অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া হল। 

    বুধবার সরকারি কৌঁসুলি অতনু চক্রবর্তী বলেন, ‘মামলার রায়ের নথি হাতে না-পাওয়া পর্যন্ত এই রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’ অন্যদিকে, ধৃতের আইনজীবী এদিন জয়ন্তকুমার ঘোষ বলেন, ‘এই মামলায় আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা কোনও অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে এই মামলা থেকে বিচারক আমার মক্কেলকে অব্যাহতি দেন। কোর্ট থেকে ন্যায়বিচার পেয়ে আমরা খুশি।’

    মামলায় কী অভিযোগ ছিল? আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে জুন মাসে মুচিপাড়া থানা এলাকায় পারিবারিক বিবাদের জেরে অভিযুক্ত ভাই দাদাকে মাথায় চপার দিয়ে খুনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় দাদাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় হাসপতালে। সেখানে তাঁর মাথায় ২০‑২২টি সেলাই পড়ে। পরে অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের প্রায় তিনমাস পর জামিন পায় ভাই। সেই মামলায় বিচার চলাকালে পুলিস আদালতে চপারটি পেশ করতে ব্যর্থ হয়। অভিযোগকারী দাদার বক্তব্যে  ছিল নানা অসঙ্গতি। তাঁর সঙ্গে এই মামলায় ১১জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র চারজন সাক্ষ্য দেন। অভিযোগ, বাকিদের সমন করেও পাওয়া যায়নি। তার থেকেও আদালতের কাছে আশ্চর্যের মনে হয়েছে, এজলাসে সাক্ষ্য চলাকালে নিজের অভিযুক্ত ভাইকেই চিনতে না-পারার কাণ্ড অভিযোগকারীর দাদার! সব মিলিয়ে এই মামলা ঘিরে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে আদালতের। আর সেই কারণেই অভিযুক্তকে মামলা থেকে বিচারক খালাস করে দেন বলে আদালত সূত্রের খবর। 
  • Link to this news (বর্তমান)