স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল মামলায় রায়দান হতে চলেছে আজকে। যোগ্য অযোগ্যর জট কাটিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC ) ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মীর ভবিষ্যৎ কী, তা নির্ধারিত হবে আর কিছুক্ষণ পরেই। বুধবার মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে যে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ চাকরি বাতিল মামলার রায় ঘোষণা করবে। সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
শীর্ষ আদালত সূত্রের খবর, চাকরি বাতিল মামলার শুনানিতে এদিনই চূড়ান্ত রায়দান করতে পারে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। ফলে এদিন সকাল থেকেই সব পক্ষের নজর থাকছে সুপ্রিম শুনানির দিকে। এই মামলার রায়ের উপর প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকার ভবিষ্যর নির্ভর করছে। শেষ পর্যন্ত এই মামলায়ই বিচারপতিদের বেঞ্চ কী রায় দেয় সেটাই দেখার। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট মামলার যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা পিছিয়ে যায়। এর আগে শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ফের পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তিনি সেই সময় বলেছিলেন, এই দুর্নীতি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে অবৈধ নিয়োগ কেউ খুঁজে না পায়। নিয়োগ দুর্নীতির স্পনসর হল রাজ্য় সরকার। পরীক্ষায় না বসেই চাকরি মিলেছে। সন্দেহ থাকলে পুরো প্যানেল বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তবে চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় একাধিক জটিলতা রয়েছে। এর মধ্য়ে সবথেকে বড় জটিলতা হল কারা যোগ্য ও কারা অযোগ্য় সেটাকে নিশ্চিত করা। তবে কীভাবে যোগ্য ও অযোগ্যদের চিহ্নিত করা হবে সেটা নিয়ে কোনও সমাধানসূত্র মেলে কি না সেটাও দেখার।
প্রসঙ্গত, গত বছর এপ্রিল মাসে এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রায়দান করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এই নির্দেশের বাস্তবায়ন মানে ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়া। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও চাকরিহারাদের একাংশও যান দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানি শেষ হয়।
এর আগে চাকরি বাতিলের মামলাটি শুনেছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ। ওই বেঞ্চ চাকরি বাতিলের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। সঞ্জীব খান্না সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার পরে মামলাটি এই নিয়ে তৃতীয়বার তাঁর এজলাসে উঠতে চলেছে। এই মামলায় মূলত প্রশ্নের মুখে পড়েছে ওএমআর-এর গ্রহণযোগ্যতা, মূল্যায়ণকারী সংস্থার ভূমিকা। সুপ্রিম কোর্ট বার বারই জানতে চেয়েছে, আদৌ কি যোগ্য-অযোগ্যদের পৃথক করা সম্ভব? এর নির্দিষ্ট কোনও সূত্র মেলেনি বলেই খবর। এই আবহে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট নাকি যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব হয়, সেটাই দেখার। আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি প্রাপকের ভবিষ্যৎ।