• ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি কেন্দ্রকে তোপ মমতার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ফের একবার স্বাস্থ্যবিমার উপর জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, এর প্রতিবাদে আগামী ৪-৫ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে ৫টা পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও ওয়ার্ডে সভা ও মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকেও রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও এ দিন রামনবমী নিয়ে ফের একবার রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। সব ধর্মের মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের আর্জি জানিয়েছেন।

    ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে ৭৪৮টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থা ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি’ বা এনপিপিআর। এই তালিকায় রয়েছে জ্বর, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল, ক্যান্সার, বাত সহ অন্যান্য রোগের ওষুধ। জ্বর ও ক্যান্সারের মতো রোগের ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রীতিমতো স্তম্ভিত মমতা। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বেন বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওষুধের দাম বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিমায় জিএসটি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর প্রতিবাদে সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

    এ দিন কোন ওষুধের কত হারে দাম বাড়ানো হয়েছে তা পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, কোনও ওষুধের দাম ১১৫.৮ শতাংশ হারে, আবার কোনওটির দাম ৭০.৯ শতাংশ হারে বেড়েছে। অর্থাৎ এরপর থেকে মানুষকে এই বর্ধিত হারে জীবনদায়ী ওষুধগুলি কিনতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিমায় জিএসটি-র বিষয়ে সংসদে তৃণমূল সাংসদদের সরব হতে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের সঙ্গে এখন সাধারণ মানুষের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্বাস্থ্য পরিষেবা। স্বাস্থ্যই সম্পদ। তাই রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়িয়েছে।

    বুধবার সংসদে পেশ হওয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়েও এ দিন মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংসদরা আজ ওয়াকফের জন্য লড়াই করছেন।’ এরপরই এই ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করেছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘কর্মই ধর্ম। আমাদের সকলের প্রথমে সংবিধানকে সম্মান করা উচিত।’

    ফের একবার রামনবমী নিয়ে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন মমতা। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সন্দেহ, ফের একবার অন্য রাজ্য বা দেশের ছবি ব্যবহার করে অশান্তি তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। সেই কারণে সব ধর্মের মানুষের কাছে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি। রামনবমীর মিছিল নিয়ে যে তাঁর কোনও আপত্তি নেই তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। তবে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    এ দিন ফের মমতা বিজেপির সঙ্গে বামেদের একাংশের আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন। মমতার কথায়, ‘গৈরিকীকরণ এবং রক্তিমকরণকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেবেন না। আপনারাও বড় বড় সাম্প্রদায়িক হয়ে গিয়েছেন। নির্বাচন থেকে শুরু করে সব ব্যাপারেই রাম-বাম এক হয়ে গিয়েছে। যত এসব করবেন, মহাশূন্য থেকে আরও শূন্যে বিলীন হয়ে যাবেন।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)