• রামনবমী, ওয়াকফে পরস্পরকে বিঁধলেন মমতা-শুভেন্দুরা
    আনন্দবাজার | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • রাজ্যে রামনবমী নিয়ে তরজায় এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    পুলিশের নিয়ম- বিধি মনে করিয়ে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। উৎসব হতে হবে উৎসবের মতো।’’ সেই সঙ্গে ফের একবার অশান্তির পরিকল্পনা করার অভিযোগে গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, রামনবমী উদাযাপনের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বলেন, ‘‘উনি নিজের লোকেদের সামলে রাখুন। আমরা কিছু করব না।’’

    রামনবমী উদযাপন ঘিরে রাজনৈতিক স্তরে তরজা অবশ্য অব্যাহত। এ দিন সেই সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ওয়াকফ বিল। জনসমর্থন সংহত করতে রামনবমীকে ঘিরে বিজেপির সক্রিয়তার সামনে ‘প্রস্তুতি’ শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। রাজ্যে একাধিক জায়গায় তৃণমূলেরই একাংশও রামনবমী উদাযপনে নেমে পড়েছে। এই তরজার সঙ্গে এ দিন যুক্ত হয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের প্রস্তাব। সংসদে তো বটেই, বাইরেও বিলের বিরোধিতায় একসুর কংগ্রেস, তৃণমূল ও বামেরা। প্রত্যাশিত ভাবে বিলের পক্ষে দাঁড়িয়ে ‘জাতীয়বাদী’ ও ‘স্বচ্ছতার পক্ষে’ থাকা সংখ্যালঘুদের সমর্থন দাবি করেছে বিজেপিও।

    এ দিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রামনবমী প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুলিশের বিধি মেনে শোভাযাত্রা করা যাবে। কিন্তু অন্য এলাকায় গিয়ে হামলা করা নয়।’’ তাঁর দাবি, ‘‘বাংলাদেশের ছবিকে মুর্শিদাবাদের বলে চালানো হয়। গুজরাত-রাজস্থানের ছবিকে এ রাজ‍্যের বলে চালানো হয়েছিল। এই পরিকল্পনা করে জুমলা পার্টি।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সত্যিই ধর্মকে ভাল বাসলে বাসন্তী, অন্নপূর্ণা পুজোও করুন। যাঁরা মিছিলের নামে অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা করেন, তাঁরা ইতিহাস জানুন। অন্নপূর্ণা পুজোর রামনবমী যেটা চৈত্র মাসে হয়, সেটাই ছিল। রাবণকে ধ্বংস করতে অকালবোধন করেছিলেন রামচন্দ্র।।’’ নাম না করে বিজেপির উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, ‘‘মানবিক হোন, দানবিক হবেন না।’’

    বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অবশ্য রামনবমীকে বৃহত্তর রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। এ দিন বিজেপি অফিস থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল শুরুর আগে তিনি বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্য আমরা বাংলায় থাকতে পারছি। ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি তুলতে পারছি, ধুতি পরতে পারছি, মা-বোনেরা শাখা-সিঁদুর পরতে পারছেন। এই মাটিকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের।’’ তারপরই তাঁর আহ্বান, ‘‘আগে বলেছিলাম, এক কোটি হিন্দু রাস্তায় নামবেন। এখন বলছি, দেড় কোটি হিন্দু রাস্তায় নামবেন। কেউ বাড়িতে থাকবেন না। রামনবমীর দিন শক্তি দেখাবেন তো?’’

    ওয়াকফ বিল সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘সংসদে আমাদের সাংসদরা বিরোধিতা করছেন। ওরা ( বিজেপি) সব কিছুতেই বিভাজন করে। আমরা তা চাই না।’’ পাল্টা রাজ্যের এক মন্ত্রীর নাম করে শুভেন্দু’র অভিযোগ, ‘‘এখানে (পশ্চিমবঙ্গ) ওয়াকফ সম্পত্তি ওঁরা মেরে খাচ্ছেন। তাই এই বিরোধিতা।’’ সংসদে বিল পেশ উদযাপনে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি চার্লস নন্দীর নেতৃত্বে মিষ্টি বিতরণ হয় হাজরা মোড়ে। কেন্দ্রের ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা করে মাদুরাইয়ে দলের পার্টি কংগ্রেসে নির্দিষ্ট প্রস্তবা নিচ্ছে সিপিএম।

    বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের জ্ঞান দিতে হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনের। কোথাও কোনও অশান্তি হলে প্রশাসনকে তার দায় নিতে হবে।’’ বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘রামনবমীর মিছিলের জন্য পুলিশ-প্রশাসন পদক্ষেপ করুক, আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলে অশান্তি হবে।’’

    এ দিকে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগে তৃণমূল ও বিজেপিকে দুষেছে রাজ্য কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল সুকৌশলে বিজেপিকে বেশি করে প্রাসঙ্গিক করে দিচ্ছেন, যাতে ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে কংগ্রেস-বামের সঙ্কট বাড়ে। কেউ রামনবমীর মিছিল করতেই পারে, প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হোক যাতে কোনও গন্ডগোল না হয়।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)