• বাজি-কাণ্ডে ধৃত চন্দ্রকান্তের লাইসেন্স ছিল, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
    আনন্দবাজার | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • পাথরপ্রতিমা ও কলকাতা: পাথরপ্রতিমায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে একই পরিবারের আট জনের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার সকালে ধরা পড়লেন কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিক। এলাকা থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। চন্দ্রকান্তের ভাই তুষারের খোঁজ চলছে বলে জানান তদন্তকারীরা। চন্দ্রকান্তের বাজি ব্যবসার লাইসেন্স ছিল বলে এ দিন দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালে চন্দ্রকান্তের ব্যবসার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। তার পরেও কী ভাবে ওই কারবার চলছিল, দেখা হবে।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানা এলাকায় দক্ষিণ রায়পুরের তৃতীয় ঘেরিতে চন্দ্রকান্তের বাড়িতে সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মজুত করা বাজি বিস্ফোরণে মারা যান তাঁর স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাইয়ের স্ত্রী-সহ আট জন। বেঁচে যান তাঁর মা মেনকা, চন্দ্রকান্ত ও তার ভাই তুষার। চন্দ্রকান্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কাকদ্বীপ আদালতের বিচারক তাঁকে চার দিন পুলিশে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

    রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার মঙ্গলবার দাবি করেছিলেন, চন্দ্রকান্তদের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতার’ জেরে এই ঘটনা। এ দিন পাথরপ্রতিমার বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘একটা ঘটনা ঘটেছে। সে তো লাইসেন্স হোল্ডার। আপনার বাড়িতে তো গ্যাসটাকে সামলে রাখবেন। এটা অনেক শিক্ষা দেয়।’’ সে সূত্রেই গুজরাতের ডীসা শহরে বাজি ফেটে মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, ‘‘গুজরাতে যে ২৫ জন মারা গিয়েছেন, সেই ঘটনায় (অভিযুক্ত) লাইসেন্স হোল্ডার নয়। অনেকে বিমা পাওয়ার জন্য ইচ্ছা করে আগুন লাগায়। খারাপ লাগছে, একটা পরিবারের প্রায় সবাই শেষ হয়ে গেল! বাজি এবং গ্যাস সিলিন্ডার পাশাপাশি থাকা উচিত? এটা থেকে শিক্ষা নেব।’’

    এর আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজি-সহ গ্রেফতার হয়েছিলেন চন্দ্রকান্ত। এক বার তাঁর কারবার বন্ধ করে দেয় পুলিশ। মাস তিনেক বন্ধ থাকার পরে ফের শুরু হয় বাজি তৈরির কাজ। বিরোধীদের বক্তব্য, বাজির বেআইনি কারবার বন্ধ করতে ব্যর্থ পুলিশ-প্রশাসন উল্টে কারবারিদের ঘাড়েই দায় চাপাতে চাইছে। এ দিন ঘটনাস্থলে যান সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। দুপুরের দিকে পৌঁছন আইএসএফ নেতারা। কান্তির দাবি, ‘‘পুলিশ-প্রশাসন এ কারখানার কথা জানত না, হতে পারে না। জেলা প্রশাসনের উপরে দায়িত্ব দিলে তদন্ত হবে না। হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করা হোক।’’ একই সুরে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘পাথরপ্রতিমার ওই বাজি কারখানার কোনও লাইসেন্স ছিল না। তা হলে কিসের আড়ালে কী চলছিল?’’ পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীরকুমার জানা বলেন, ‘‘ওই কারখানার ঘটনা সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানতাম না। ভবিষ্যতে আর কোথাও যাতে এমন না ঘটে, সে জন্য সবার সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’’

    সুন্দরবন পুলিশ-জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও নালাভাট বলেন, ‘‘বাজি বিস্ফোরণে মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্ত বলেন, ‘‘তদন্ত রিপোর্ট রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পাঠানো হয়েছে।’’ প্রশাসন সূত্রের দাবি, নবান্নে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি লাইসেন্স চান। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পুলিশ তা দিতে চায়নি। তার পরেও কী করে তিনি লাইসেন্স পেলেন বা লাইসেন্স ছাড়াই কারখানা চালাচ্ছিলেন, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে পুলিশকে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)