মত্ত চালকদের ধরতে বিশেষ ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার পাবে সব থানা
আনন্দবাজার | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
মত্ত চালকদের চিহ্নিত করার জন্য এ বার থানাগুলিকে কনট্যাক্টলেস ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার দিতে চাইছে লালবাজার। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের সঙ্গে ১০টি ডিভিশনে একটি করে ওই ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার রয়েছে। যা দিয়ে রাতের শহরে মত্ত চালকদের চিহ্নিত করার কাজ করেন পুলিশকর্মীরা। পুলিশ সূত্রের খবর, এ বার প্রতিটি থানার পক্ষ থেকে যাতে মত্ত চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো যায়, সে জন্য থানাগুলিকে ওই ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার দেওয়া হচ্ছে। আর তার জন্য পুলিশ ১০০টি ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে ৫০টি ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার মেশিন ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের হাতে চলে এসেছে। বাকিগুলি চলতি সপ্তাহেই হাতে চলে আসবে বলে পুলিশকর্তাদের আশা। এর জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা।
আগে ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার ব্যবহার করার সময়ে চালককে মুখে পাইপ ছোঁয়াতে হত, যা নিয়ে অনেকেরই আপত্তি ছিল। তাকে কেন্দ্র করেই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অনেক সময়ে বিবাদে জড়াতেন চালকেরা। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ট্র্যাফিক বিভাগের ২৬টি গার্ড এর বদলে কনট্যাক্টলেস ব্রেথ অ্যানালাইজ়ারের ব্যবহার শুরু করে। এতে ওই যন্ত্রের সামনে মুখ এনে ফুঁ দিলেই সেটি নির্ধারণ করে নেবে, ওই চালক মত্ত অবস্থায় রয়েছেন কিনা।
বর্তমানে প্রতিদিন রাতের শহরে বিভিন্ন জায়গায় মত্ত চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ট্র্যাফিক পুলিশের বিভিন্ন গার্ড। মত্ত অবস্থায় থাকার জন্য প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ জন চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে পুলিশ। যদিও তা করা হয় মূলত ট্র্যাফিক
গার্ডের তরফে।
লালবাজার সূত্রের খবর, মাঝেমধ্যে থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ড যৌথ ভাবেও মত্ত চালকদের বিরুদ্ধে নাকা তল্লাশি করে থাকে। তাতে মূলত ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীরাই ওই যন্ত্রের ব্যবহার করে থাকেন। এ বার থানার হাতে ওই যন্ত্র তুলে দেওয়া হলে থানা পৃথক ভাবে মত্ত চালকদের চিহ্নিত করতে পারবে। সেই সঙ্গে থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ড একাধিক জায়গায় মত্ত চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারবে।
এক পুলিশকর্তা জানান, থানাগুলির হাতে ওই কনট্যাক্টলেস ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার পৌঁছে গেলে তারা নিজেরা যে কোনও এলাকায় প্রয়োজন মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এতে মত্ত চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে বলে তিনি জানান।