• ‘এই রায় কোনওকালেই কাম্য ছিল না’, চাকরি বহাল থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে খুশি নন শিক্ষিকা সোমা
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • রোজের মতো বৃহস্পতিবারও স্কুলে গিয়েছেন বীরভূমের নলহাটির মধুরা হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষিকা সোমা দাস। প্রায় ২৬ হাজার মানুষের চাকরির ভবিষ্যৎ যে এ দিন সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করবে, তা তিনি জানতেন। ফলে সেই দিকেও তাঁর নজর ছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে এ দিন সুপ্রিম কোর্ট  প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু চাকরি যায়নি সোমা দাসের। নিজের চাকরি থাকলেও এই রায় শুনে খুশি নন তিনি। স্কুল থেকেই ‘এই সময় অনলাইন’-কে প্রতিক্রিয়া দিলেন সোমা। তিনি জানালেন, এই রায় কোনওকালেই কাম্য ছিল না। 

    কলকাতা হাইকোর্টের রায় অব্যাহত রেখে SSC মামলায় ২০১৬ সালের গোটা নিয়োগ প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এই প্যানেলে একমাত্র চাকরি বহাল রয়েছে সোমা দাসের। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর চাকরি বহাল রেখেছিল ‘মানবিকতার কারণে’। সুপ্রিম কোর্টেও হাইকোর্টের সেই নির্দেশই বহাল রেখেছে। 

    নিজের চাকরি থাকলেও যোগ্যদের কথা ভেবে বিষাদে ভারাক্রান্ত সোমার মন। তিনি ‘এই সময় অনলাইন’-কে বলেন, ‘এই রায় কোনওদিন কাম্য ছিল না। প্যানেলের মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনও অভিযোগ ছিল না। কিন্তু সঠিক তথ্য কমিশনের কাছে ছিল না। এক এক সময়ে এক এক রকম তথ্য আদালতে দিয়েছে। সঠিক তথ্য না মেলার কারণেই হয়তো এই রায়, যা কোনও ভাবেই কাম্য নয়। অনেকের পরিবার এই চাকরির ভরসায় চলে। যাঁরা দুর্নীতি করে চাকরি পাননি, তাঁরা আবার কঠিন সংগ্রামের মধ্যে পড়লেন।’ 

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সোমা এসএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন। মেধা তালিকাতে নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি চাকরি পাননি, এই অভিযোগ করেছিলেন। সেই নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও হয়। চাকরির দাবিতে রাজপথে ধর্নাতেও বসেছিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত এই বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের কাছে ‘অনুরোধ’ করেছিলেন সোমাকে চাকরি দেওয়ার জন্য। ২০২২ সালে সোমাকে চাকরির সুপারিশপত্র দিয়েছিল কমিশন। ২০২২ সালে ১৮ এপ্রিল তিনি যোগ দেন মধুরা হাইস্কুলে। 

  • Link to this news (এই সময়)