চাকরি বাতিলের জেরে ধর্মতলার কোলাহলের মধ্যেও শোকের পরিবেশ। কেউ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, কেউ হাউ হাউ করে কাঁদছেন। অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুখে টুঁ শব্দ নেই অনেকেরই। রায় শুনে ভাষা হারিয়েছেন কেউ, কারও গলায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এতদিন ধরে চাকরি বাঁচানোর শেষ আশাও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নিভে গিয়েছে। ২০১৬ সালের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের পুরো প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্টের রায়। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব নয়।
এই রায় শোনার পরই ধর্মতলার চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ মঞ্চে কান্নার রোল। চাকরি হারানোর তালিকায় শিক্ষক অমিতরঞ্জন ভুঁইয়া। রায় শুনে তাঁর বক্তব্য, ‘আমার দোষ কোথায়, আমাদের দোষ কোথায়? আমরা তো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। সিবিআই, ইডি-সহ তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতিগ্রস্তদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে আমার বা আমার মতো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তো নাম নেই। তাহলে আমাদের কেন ভুগতে হবে। ছ’বছর ধরে শিক্ষকতার চাকরি করছি। এখন তো পথে বসতে হবে। এই রায় একেবারে অপ্রত্যাশিত।’
এখানেই শেষ নয়, চাকরি হারানো শিক্ষকরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে বলেন, ‘এই পরিণতির জন্য দায়ী রাজ্য সরকার। এর দায় রাজ্যকেই নিতেই হবে। বিচারব্যবস্থার থেকে এই রায় আশা করিনি। ভেবেছিলাম ন্যায়বিচার পাব।'
হতাশার সুর শিক্ষিকা শিপ্রা বিশ্বাসের গলায়। রায় শুনে ভেঙে পড়ে বললেন, ‘কিছুই আর পরিবর্তন হবে না। সত্যের জয় আর এল না। এতদিন মিথ্যে আশা নিয়ে বসেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে মানুষকে বলতে হবে অসৎ পথে চলো। ভাবতেই পারিনি এরকম অদ্ভূত ব্যাপার শুনব।’