বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা, ডিপিএলের পর এ বার রেকর্ড ইসিএলের। এ বছর কয়লা উৎপাদনে সর্বকালীন রেকর্ড করল ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেড (ইসিএল)। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ ৫২.০৩৫ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন করেছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। সর্বাধিক কয়লা উৎপাদনে এর আগে ২০১৯–২০ অর্থবর্ষে রেকর্ড করেছিল ইসিএল। তার পরিমাণ ছিল ৫০.৪০ মিলিয়ন টন। গত অর্থবর্ষের তুলনায় এ বার মোট ৯.৪১ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইসিএলের ডিরেক্টর (টেকনিক্যাল অপারেশন) নীলাদ্রি রায় বুধবার জানান, ইসিএলের এ বছরের কয়লা উৎপাদনের পরিমাণ কোল ইন্ডিয়ার সমস্ত সহায়ক সংস্থা থেকে বেশি। এর কৃতিত্ব এখানকার সমস্ত স্তরের কর্মী থেকে আধিকারিকদের। তিনি বলেন, ‘শুধু কয়লা উৎপাদনের ক্ষেত্রেই রেকর্ড হয়েছে তা নয়। ওভারবার্ডেন অর্থাৎ কয়লা তোলার আগে যে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি তোলা হয়, সে ক্ষেত্রেও রেকর্ড হয়েছে। এই অর্থবর্ষে ১৮৮.৯৪ মিলিয়ন কিউবিক মিটার ওভারবার্ডেন তোলা হয়েছে। তার আগে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ১৭০.৯০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার ওভারবার্ডেন তুলে রেকর্ড হয়েছিল।’
জানা গিয়েছে, গত ২৮ মার্চ এক দিনে সর্বাধিক ২.৮৮ লাখ টন কয়লা উৎপাদন করে রেকর্ড করেছে ইসিএল। গত পাঁচ দশকের ইতিহাসে যা এক নজির। রেলের মাধ্যমে কয়লা পরিবহণের ক্ষেত্রেও রেকর্ড হয়েছে এ বার। গত ৩১ মার্চ ইসিএলের কয়লা বোঝাই ৬৮টি রেক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিভিন্ন কারখানা ও গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বছর ৩১ মার্চ ৬৫টি কয়লা বোঝাই রেক পাঠিয়ে রেকর্ড করেছিল ইসিএল। গত অর্থবর্ষে যে তিন এরিয়ায় সবচেয়ে বেশি কয়লা উৎপাদন হয়েছে সেগুলি হলো রাজমহল (১৮ মিলিয়ন টন), শোনপুর বাজারি (১২.৫ মিলিয়ন টন) ও সালানপুর (পাঁচ মিলিয়ন টন)।
একই বছরে একের পর এক রেকর্ড করা সম্ভব হলো কী ভাবে? নীলাদ্রির উত্তর, ‘আমাদের মোট উৎপাদনের ৬০ শতাংশ এসেছে আউটসোর্সিং থেকে। এর আগে যে সব ঠিকাদার সংস্থা চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করতে আসত তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কয়লা তোলার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারত না। আমরা এমন ২৩টি সংস্থাকে এ বার সরিয়ে দিয়ে নতুন সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তাতে কাজও হয়েছে। যার ফল এই রেকর্ড। আমাদের ট্রেড ইউনিয়নগুলিও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে উৎপাদন বাড়াতে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়লা পাঠাতে সাহায্য করেছে।’