এই সময়: ছ’বছর আগে ব্যাঙ্কক থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে আসার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরকে আটকেছিলেন কেন্দ্রীয় শুল্ক বিভাগের আধিকারিকরা। ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে রাজ্য পুলিশের অফিসাররা বাধা দিয়েছিলেন শুল্ক আধিকারিকদের— এই অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন রাজকুমার বার্থওয়াল নামে এক শুল্ক অফিসার।
বুধবার এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হলেন ওই শুল্ক অফিসারের কৌঁসুলি, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল এসভি রাজু। শেষমেশ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি মনমোহনের ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন ও সতর্কবার্তার মুখে পড়ে ওই আবেদন প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন রাজু।
মূল ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। সেই সময়েই শুল্ক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এসকে বিশ্বাস রুজিরাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে পুলিশের বাধাদানের ব্যাপারে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন পুলিশে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০-এর সেপ্টেম্বরে সব তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে ‘মিসটেক অফ ফ্যাক্ট’ বলে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দেয় পুলিশ। রুজিরা ও মেনকার বিরুদ্ধে জারি করা শুল্ক বিভাগের সমনও ২০২০-এর জুনে খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
তারপরেও কী ভাবে একজন শুল্ক অফিসার ওই ঘটনায় তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন সুপ্রিম কোর্টে, তা নিয়েই এ দিন একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেয় বিচারপতি দত্ত ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ। বিচারপতি দত্ত অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেলের কাছে জানতে চান, মামলাকারী কোন এক্তিয়ার থেকে এই আবেদন করলেন? ২০১৯ সালে কলকাতা বিমানবন্দরে ঘটনা এই ঘটনা সম্পর্কে মামলাকারী কী ভাবে অবহিত হলেন? শুল্ক বিভাগ বা কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে একজন শুল্ক অফিসার ব্যক্তিগত ভাবে এই ধরনের একটি আবেদন করলেন— তা নিয়েও কোর্ট সংশয় প্রকাশ করে।
রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আইনজীবী সঞ্জয় বসু জানিয়েছেন, যদি এই মামলাকারী তাঁর মামলা নিয়ে এগোতে চান, তা হলে আদালতের কাছে তাঁকে ১০ লক্ষ টাকা জমা রাখতে হবে বলে জানিয়ে দেয় বেঞ্চ। আদালত এ-ও বলে, যদি আবেদনকারী তাঁর যুক্তি প্রমাণে ব্যর্থ হন, তা হলে ওই জমা রাখা অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে। আদালতে বিভিন্ন সময়ে উপযুক্ত আইনি যৌক্তিকতা ছাড়াই এত সংখ্যায় ভুয়ো জনস্বার্থ মামলা দায়ের হচ্ছে যে তার প্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই সুপ্রিম কোর্টের এই বার্তা।
এ দিনের শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ— কলকাতা হাইকোর্টে সব ধরনের আইনি পথ নিঃশেষ হয়ে গেলে অথবা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট না-হলে শুল্ক বিভাগ বা কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করতে পারত। এই পর্যবেক্ষণের পরে অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে চান। আদালত তার ভিত্তিতে মামলাটি খারিজ করে দেয়।