• বেতন ফেরত দিতে হবে কাদের? সুপ্রিম-রায় পড়ে শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশের পরেই চাকরি গিয়েছে প্রায় ২৬ হাজারের। এই রায় প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে বলেন, ‘বিচারব্যবস্থা, বিচারপতির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়েই বলছি, এই রায় মানতে পারছি না।’

    এ দিকে সুপ্রিম রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ‘কাদের বেতন ফেরত দিতে হবে?’— এই প্রশ্নে তোলপাড় চলছে। তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মমতা এই বিষয় সংক্রান্ত আদালতের রায় পড়ে শোনান । তিনি আদালতের রায় উল্লেখ করে বলেন, ‘...তবে, যে সব প্রার্থী ইতিমধ্যেই চাকরিতে নিযুক্ত আছেন, তাঁদের থেকে কোনও অর্থ ফেরত চাওয়া হবে না।’

    ৪১ পাতার এই রায়েই উল্লেখ রয়েছে, ‘কালিমালিপ্ত চাকরিপ্রার্থী’-দের বেতন ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ, যাঁদের র‍্যাঙ্ক জাম্প হয়েছে বা প্যানেলে নাম ছিল না বা ওএমআর শিটে সমস্যা রয়েছে, কেবলমাত্র এমন চাকরিপ্রাপকদেরই ফেরাতে হবে টাকা। রায় অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৬ হাজার ২৭৬ জন।

    পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আদালত তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে বলেছে। আমরা তা করে দেবো। এসএসসি স্বশাসিত সংস্থা। আমদের ভাবনা ওদের জানাতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি। ওরা যেমন ভালো বুঝবে তা করবে। তবে আমরা চাই, বিষয়টি দ্রুত শুরু হয়ে যাক।’ আইনজীবীদের একাংশের দাবি, ‘এই কালিমালিপ্ত চাকরিপ্রার্থীরা বাদ দিয়ে বাকিরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।’

    এ দিন বিজেপি এবং বামেদের একসুরে আক্রমণ করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘বাংলাকে আর কত টার্গেট করবে? স্কুলগুলোর কী হবে?’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদের চাকরি গিয়েছে তাঁদের মধ্যে ১১ হাজার ৬১০ জন নবম এবং দশম শ্রেণি এবং ৫ হাজার ৫৯৬ জন একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াতেন। মমতার বার্তা, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি—‘উচ্চশিক্ষার গেটওয়ে’। অনেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখছেন। প্রায় ২৬ হাজারের চাকরি বাদ দিলে স্কুলে কারা পড়াবেন, প্রশ্ন তোলেন মমতা।

    তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় আমাদের দু'টি পথও দিয়েছে। রায় মেনেই তা করব। ২০১৬ সালে কারা মন্ত্রী ছিলেন, তাও খতিয়ে দেখব। একটা জেলার কথা আমরাই জানি।’ পাশাপাশি, চাকরিহারাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা অবসাদে চলে যাচ্ছেন শুনেছি। কোনও অঘটন ঘটুক তা চাই না। এই পরিবারগুলির পাশে রয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)