বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম
হাতিকে তাড়ানোর জন্য বাজি বা পটকা ফাটানো হয়। মশাল জ্বালিয়েও ভয় দেখানো হয়। কিন্তু বাজি–পটকার আওয়াজে আর ভয় পাচ্ছে না হাতিরা। তাই হাতিকে জঙ্গলে পাঠাতে এ বার গ্রামবাসীদের ভরসা বাদ্যযন্ত্রে। এলাকায় ঢুকে পড়েছিল হাতির দল। ফসল রক্ষা করতে মশাল জ্বালানোর পাশাপাশি মঙ্গলবার রাতে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে হাতি তাড়াতে দেখা গেল বারডাঙ্গা বিটের গ্রামবাসীদের।
সাঁকরাইল ব্লকের খড়্গপুর বন বিভাগের কলাইকুন্ডা রেঞ্জের বারডাঙ্গা বিটে এখন হাতির দল রয়েছে। জানা গিয়েছে, সারাদিন ধরে দলটি চুনপাড়া এলাকার একটি কাজুবাগানে ছিল। দলটিতে ১৮–২০টি হাতি ছিল। রাতে খাবারের সন্ধানে ধান জমিতে হানা দিতেই মশাল হাতে ছুটে যান গ্রামবাসীরা। পাশাপাশি ধামসা, মাদল, কুড়কুড়ি–সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে হাতি তাড়াতে শুরু করেন তাঁরা। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হতে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সাঁকরাইলের সুশীল মাহাতো বলেন, ‘হাতি প্রতিদিনই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। হাতি তাড়াতে বহু গ্রামবাসী এবং বন দপ্তরের লোকজন বাজি–পটকা ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই আওয়াজ শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে হাতির দল। আর ভয় পায় না। এখন দেখা যাচ্ছে বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজকে তারা ভয় পাচ্ছে। তাদের কাছে এটা একেবারেই নতুন আওয়াজ। হাতি আমাদের কাছে ঠাকুর। হাতির উপরে আমরা আক্রমণ করতে পারি না। তাদের কোনও ক্ষতি না করে ধামসা–মাদল বাজিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
আগে হাতি তাড়াতে বড় বড় টিন, লোহার ঘণ্টা বাজিয়ে এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করে হাতিকে জঙ্গলে পাঠানো হতো। আশির দশকের শেষ থেকে হাতি তাড়াতে পটকা–বাজি ফাটানো শুরু হয়।
ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা, প্রাক্তন বনকর্তা, হাতি বিশেষজ্ঞ সমীর মজুমদারের কথায়, ‘হাতির কান অনেক বড়। কুড়ি ডেসিবেল এর নীচের শব্দও তারা জোরে শুনতে পায়। পটকার আওয়াজ আমরা যতটা জোরে শুনতে পাই, হাতির কানে তার থেকে কয়েকগুণ বেশি যায়। পটকার আওয়াজ পেলে তারা অস্বস্তি বোধ করে এবং বুঝতে পারে যে এটা জঙ্গল নয়, লোকালয়। তারপরে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতি থাকায় হাতিও নিজেকে অভিযোজন করে ফেলেছে। যার ফলে তারা এখন আর বাজি–পটকার আওয়াজে ভয় পাচ্ছে না। বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ তাদের কাছে একেবারেই নতুন। এই আওয়াজে তারা অভ্যস্ত নয়। বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করলে যেমন হাতির ক্ষতি হয় না, তেমনই পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে না। বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি একসঙ্গে যদি কুড়ি–পঁচিশটি শাঁখ উচ্চস্বরে বাজানো হয়, তা হলেও হাতি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাবে। কম্পন যুক্ত শব্দ তাদের একেবারেই পছন্দ নয়।’