আরবে কাজ মানেই লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার। তাই সাবালক হওয়ার আগেই স্কুলের পাঠ চুকিয়ে অনেকে আরব দুনিয়ায় কাজ করতে যাচ্ছে।
এদিকে সৌদি আরব-সহ পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ দেশে ১৮ বছর বয়স না হলে কাজে নেওয়া হয় না। তাই কাজ পেতে আধার কার্ড জাল করে বয়স ভাঁড়িয়ে আরবে পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এ রাজ্যের অনেক কিশোর-কিশোরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে নাবালকদের আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন দালালরা।
তাঁদের সঙ্গে পাসপোর্ট দপ্তরের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। যদিও আরবে পৌঁছনোর পরেই তাদের অনেকেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে এ রাজ্যের বহু বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক এই মুহূর্তে আরবের বিভিন্ন দেশে জেলে বন্দি বলেও দাবি উঠেছে। শুধু মুর্শিদাবাদ জেলারই নাকি ১০ জন নাবালক আরবের জেলে বন্দি রয়েছে।
মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার কিশোর সুরজ শেখ বছর চারেক আগে লেবারের কাজ করতে গিয়েছিলেন জেড্ডায়। তাঁর বাবা মুজাম শেখ জানিয়েছেন, ছেলে যখন বিদেশ যান, তখন তাঁর বয়স ১৮ হয়নি। দালাল বাইরে থেকে একটা আধার কার্ড করে দিয়েছিলেন। তাতে সুরজের জন্ম তারিখ ছিল ২০০২–এর ১৩ জানুয়ারি। যদিও আসল আধার কার্ডে তার জন্ম তারিখ ২০০৪-র ১৩ এপ্রিল। তার জন্য ওখানকার পুলিশ ওঁকে গ্রেপ্তার করে। সুরজ বর্তমানে জেড্ডার একটি জেলে রয়েছেন। মুজামের কথায়, ‘যে দালাল আধার কার্ড ও পাসপোর্ট করে দিয়েছিলেন, তাঁকে খুঁজেই পাচ্ছি না। এখন কী করব, সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।’
মুর্শিদাবাদের কান্দির মহালন্ডি গ্রামের আসাদুল শেখেরও একই অবস্থা। আধার কার্ড অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ২০০১–এর ২ মার্চ। কিন্তু দালাল যে আধার কার্ড বানিয়ে দিয়েছিলেন, তাতে জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৯৭–র ২ মার্চ। একই অপরাধে ওই জেলার খড়গ্রামের দিয়ারা গ্রামের কিশোর তাসিরুল শেখও আরবে বেশ কিছুদিন জেল খেটেছেন। খরসাডাঙ্গার গ্রামের বাসিন্দা নিপু হাজরা কয়েক বছর আরবে জেল খেটে সদ্য বাড়ি ফিরেছেন। জানা গিয়েছে, আরবের রাস্তাঘাটে বিদেশি দেখলেই পুলিশ কাগজপত্র চেক করে। অনেক সময় থানায় তুলে নিয়ে যায়। তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে স্ক্যানার মেশিনে আঙুলের ছাপ মেলানো হয়।
আরবের বিভিন্ন জেলে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারগুলিকে আইনি সহায়তা দেয় মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান জানাচ্ছেন, মূলত গরিব পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই স্থানীয় দালালদের ধরে আরবে মজদুরি করতে যান। পাসপোর্ট তৈরি, ভিসার ব্যবস্থা — সবটা দালালরাই করে দেন। এর জন্য মোটা টাকা কমিশন নেন তাঁরা। সাবালক দেখাতে নকল আধার কার্ড তাঁরাই বানান। যার ভিত্তিতে পাসপোর্ট-ভিসা করা হয়। অভিযোগ, আরবে ধরা পড়ার পরে দালালরা কোনও ভাবে সাহায্য করছেন না।