২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে কলকাতা হাই কোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার (২৫,৭৫২) শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে গেল। আদালতের এই রায়ের পর রাজ্য প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকে জানিয়ে দিয়েছেন, চাকরি বাতিল হলেও প্রাপ্ত বেতন ফেরত দিতে হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান করি, তবে এই রায় মেনে নিতে পারছি না।" তিনি আরও জানান, "যে সমস্ত চাকরিপ্রাপ্তদের নিয়োগ বাতিল হয়েছে, তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে না।"
এছাড়া, তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কীভাবে এই নিয়োগ হবে বা পূর্ববর্তী চাকরিপ্রার্থীদের কোনও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
বিজেপি সাংসদের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য
বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "হাইকোর্টে যিনি এই রায় দিয়েছিলেন, তিনি এখন বিজেপির সাংসদ। ডাংগুলি না গাঙ্গুলি? পরে জেনে নেব। আজ তাঁরা বড় বড় কথা বলছেন, কিন্তু তাঁদের দায়বদ্ধতা ছিল না?"
বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ
এই রায়ের পর রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। বিরোধীরা এই দুর্নীতির জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "অযোগ্যদের রক্ষা করতে গিয়ে যোগ্যদের বলি দেওয়া হয়েছে। এটি রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।"