• ভয়ংকর দূষণের করাল গ্রাসে গোটা এলাকা! বায়ুদূষণ-জলদূষণে মর্মান্তিক পরিস্থিতি...
    ২৪ ঘন্টা | ০৩ এপ্রিল ২০২৫
  • বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়: দূষণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে শিল্পশহর আসানসোলে। এই রকম অবস্থা থাকলে আগামীদিনে কী হবে? তা নিয়ে চিন্তিত জেলা প্রশাসন থেকে শিল্পাঞ্চলবাসীরা। এই শিল্পতালুকে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা থেকে বেসরকারি কারখানা-- সর্বত্র চলছে সম্প্রসারণের কাজ। তাই শহরবাসীর আশঙ্কা, আগামীদিনে দূষণ হয়তো আরও বাড়বে। একদিকে কারখানার ছড়ানো দূষণ থেকে হচ্ছে বায়ুদূষণ, অন্য দিকে দূষিত হচ্ছে জল। যা নিয়ে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রোগ।

    স্থানীয় এক চিকিৎসক বলছেন, জামুরিয়া ও রানিগঞ্জ শিল্পতালুক তৈরি হয়েছে প্রায় শতাধিক ছোট ও বড় কারখানা নিয়ে। এই সব কারখানা ছড়াচ্ছে দূষণ। এই দূষণের জেরেই গ্রামে টেকা দায় হয়েছে গ্রামবাসীদের।

    দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোন নিয়ম না মেনেই কারখানাগুলি দিনের পর দিন এভাবেই চলে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দূষণের পরিমাণ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। আর এই দূষণের জেরেই নদী-পুকুরের জলও দূষিত হয়ে পড়ছে। বায়ু দুষণের জেরেও নানা ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। কারখানা কর্তৃপক্ষর কাছে বিষয়টি বারবার জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ না হওয়ায় শেষমেষ তাঁরা পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, দূষণের পরিমাণ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দূষণের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায়, কারখানা কর্তৃপক্ষর সঙ্গে বৈঠক করে একাধিক নির্দেশ জারি করেছে জেলা প্রশাসন।


     দূষণ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্দেশ:


     


    ১) পরিবহণের ক্ষেত্রে কারখানার কাঁচা মালা ঢাকা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে 


    ২) কলকারাখানাগুলিকে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ 


    ৩) কারখানায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম পালন হচ্ছে কি না, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে তা দেখার নির্দেশ 


    ৪) আসানসোল ও দুর্গাপুর পৌরসভাকে দূষণ রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপের নির্দেশ 

    বর্তমান পরিস্থিতিই যদি এই থাকে, তাহলে পরে কী হবে? কারণ বার্ণপুর স্টিল প্লান্টে ৩৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। অন্য দিকে রানিগঞ্জ-জামুরিয়া শিল্পতালুকে একাধিক স্টিল ও স্পনজ আয়রন কারখানায় চলছে সম্প্রসারণের কাজ। কয়েকবছর পরেই কারখানাগুলিতে উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৪০-৫০% বাড়তে চলেছে, তাতেই দূষণের পরিমাণও অনেকটাই বাড়বে। 

    জামুরিয়া সুপার কারখানার আধিকারিক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, সমস্ত নিয়ম পালন করা হয়। আমাদের কারখানা ১৩০০ কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, সেই জন্য অনেকেই বিভিন্ন ভাবে সম্প্রসারণের কাজে বাধা দিচ্ছে। আমরা এই কারখানা করলে বহু বেকার ছেলের চাকরি হবে। আবার গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভিনরাজ্যর যুবকদের কাজ দেওয়া হচ্ছে। এলাকার ছেলেরা সেভাবে কাজ পাচ্ছেন না। 

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)