সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এক ধাক্কায় বাতিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি। রাজ্যের স্কুলগুলিতে এমনিই শিক্ষক কম। তার উপরে চাকরি বাতিলে শিক্ষক সঙ্কট যে কতটা প্রকট হল তার প্রমাণ মিলল দুর্গাপুরের নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কথায়। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের রায়ে এই স্কুলেরও আট জন শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি বাতিল। সেই খবর শুনে মাথায় হাত প্রধান শিক্ষকের।
নেপালিপাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলিমুল হক বলেন, ‘আমাদের স্কুলে চার হাজার দুশো পড়ুয়া রয়েছে। ৩৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছে। তাদের মধ্যে আট জনের চাকরি বাতিল হল। এ বার আমরা স্কুল চালাবো কী করে? মহামান্য আদালতের নির্দেশ নিয়ে আমার প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। তবে আমি মহামান্য আদালতের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, যাঁরা যোগ্য তাঁদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যোগ্যদের চাকরি চলে গেল তাঁদের সংসার কী ভাবে চলবে!’
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালের এসএসসি-র পুরো প্যানেল বাতিল। এতে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হল এ দিন। সেই প্যানেলে রয়েছে দুর্গাপুরের নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুনিমা মণ্ডলের নামও। এদিন স্কুলে ঢোকার পরেই সুপ্রিম কোর্টের রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সুনিমা বলেন, ‘আমাদের কী ভুল ছিল? সমস্ত কিছু যাচাই করার পর চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। আজ আমাদের চাকরি বাতিল হলো। আমরা এখন কী করব!’
দুর্গাপুরের নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এদিনের রায়ে চাকরি হারালেন। হতাশ জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল হকও। তিনি বলেন, "যাঁরা নিয়োগ করেছেন, দোষ তাঁদের। কিন্তু তাঁদের না ধরে পুরো প্যানেলটাকেই বাতিল করে দেওয়া হলো। এটা মানা যায় না। যদি কেউ ব্যর্থ হয় তাহলে তার দায় সরকারের।’