রসগোল্লার জিআই ট্যাগ পেতে ওডিশার সঙ্গে বাংলাকে লড়তে হয়েছিল দীর্ঘ যুদ্ধ। কিন্তু লড়াই যতই কঠিন হোক না কেন শেষ পর্যন্ত বিজয় মুকুট এসেছিল এ বঙ্গেই। মিষ্টি প্রিয় বাঙালির পাতের সাধের মিষ্টির বিজয় গাথা রসগোল্লাতেই যে শেষ নয়, তা আরও এক বার প্রমাণিত। নতুন করে জিআই তকমা পেল বাঙালির প্রিয় আরও একগুচ্ছ মিষ্টি।
রসগোল্লা, জয়নগরের মোয়া, দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে এ বার এক আসনে বাংলার সাত নতুন পণ্য। খাদ্য থেকে বস্ত্র সবই আছে সেই তালিকায়। এ দিন নতুন করে জিআই অর্থাৎ জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা ভৌগোলিক স্বীকৃতি পেল রামকৃষ্ণ দেবের প্রিয় কামারপুকুরের সাদা বোঁদে, বারুইপুরের পেয়ারা, রাঁধুনি পাগল চাল, মালদার নিস্তারী সিল্ক, বাংলার নলেন গুড়ের সন্দেশ, মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া এবং বিষ্ণুপুরের মতিচুর লাড্ডু। রিপোর্ট অনুযায়ী, এতদিন খাবার ও হস্তশিল্প-সহ বিভিন্ন পণ্য মিলিয়ে বাংলায় জিআই স্বীকৃতি পাওয়া জিনিসের সংখ্যা ছিল ২৭। এ দিন জুড়ল আরও নতুন সাত পণ্য। জানা গিয়েছে, ট্যাগ পেতে এখনও অপেক্ষা করছে বাংলায় উৎপাদিত আরও ১১টি তথ্য।
এদিন জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে সাদা বোঁদে। শোনা যায়, স্বয়ং রামকৃষ্ণদেব এই বোঁদে খেতে ভালোবাসতেন। প্রথম বার বন্ধু দুর্গাদাস মোদকের বাড়িতে নাকী ঠাকুর এই মিষ্টি খেয়েছিলেন। তার পর সুযোগ পেলেই খেতেন এই মিষ্টি। সাদা বোঁদে কামারপুকুর ছাড়া অন্য কোথাও মেলে না।
জিআই পেয়েছে প্রাচীন মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুরের মতিচুর লাড্ডু। বহুদিন এই মিষ্টির জন্য জি আই স্বীকৃতির দাবি করছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ দিন অবশেষে সেই স্বীকৃতি পেয়ে খুশির সীমা নেই তাঁদের। জনশ্রুতি বলে, আরাধ্য গোবিন্দের প্রসাদ তৈরি করার লক্ষ্যে এক মিষ্টি ব্যবসায়ী তৈরি করেছিলেন এই মিষ্টি। মোতির মালা থেকে এই মিষ্টির নাম হয় মতিচুর। দীর্ঘদিন ধরে আবেদনের পর অবশেষে মিলল স্বীকৃতি। একই ভাবে মুর্শিদাবাদের ছানাবড়ার জিআই স্বীকৃতি দাবি করা হচ্ছিল ২০২২ সাল থেকে। অবশেষে তিন বছর পর বৃহস্পতিবার এল সাফল্য। ব্রিটিশদের খুশি করতে বহরমপুর নিবাসী মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী এই মিষ্টি তৈরি করিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় এই ভাজা মিষ্টি। এ ছাড়া বাংলার নলেন গুড়ের সন্দেশও পেয়েছে জিআই তকমা। কিন্তু কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নয় গোটা বাংলাতেই মেলে এই মিষ্টি।
বারুইপুরের পেয়ারাও আছে এই জিআই স্বীকৃতির তালিকায়। এ ছাড়া, বাংলার সুগন্ধি চাল রাঁধুনি পাগল এবং মালদা নিস্তারী সিল্কও পেয়েছে এই বিশেষ স্বীকৃতি। মালদায় হলুদ রঙের রেশম থেকে তৈরি হয় এই সিল্ক। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর আরও বিস্তার হবে এই সিল্কের বাজার বলে মনে করছেন রেশম শিল্পীরা।