মণিরাজ ঘোষ
২০১৯ সালে কাউন্সেলিং-এর পর নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষকতার চাকরি পান বাঁকুড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গির শেখ। জীবনের প্রথম সরকারি চাকরি ছিল সেটা। ২০২১ সালে, উচ্চ প্রাথমিক পরীক্ষায় (২০১৫) উত্তীর্ণ হওয়ায় ইটারভিউয়ের ডাক পান। সুযোগ ছিল দ্বিতীয় চাকরি পাওয়ার। ‘বেকার’ কোনও প্রার্থীকে জায়গা করে দেওয়ার ভাবনায় সেই ইন্টারভিউয়ে যোগ দেননি। বৃহস্পতিবার সেই শিক্ষক বললেন, ‘ওটাই জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল।’ কারণ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি গেল জাহাঙ্গিরের। এখন সঙ্গী শুধুই হতাশা আর আফসোস।
বাড়িতে স্ত্রী ও মাত্র ২ মাসের শিশুকন্যা। বৃদ্ধ বাবা আছেন। ভাই, বোন মিলিয়ে বেশ বড় পরিবার। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পর সেই পরিবারেই নেমে এল হতাশা। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি ব্লকের মৌপাল দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠে শিক্ষকতা করেন জাহাঙ্গির। মেদিনীপুর শহরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করেছেন। সেখান থেকেই প্রতি মাসে নিয়ম করে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয় তাঁকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হতাশ কন্ঠে বিদ্যালয়ের স্টাফ রুমে বসে জাহাঙ্গির বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমি যদি ইন্টারভিউতে না যাই, তবে আমার পরিবর্তে একজন বেকার ভাই বা বোন সেই সুযোগটা পাবেন। ২০২১ সালে উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ ছাড়াও প্রাথমিকের ইন্টারভিউ হয়েছিল। তাতেও ডাক পেয়েছিলাম। যাওয়ার কথা কখনও ভাবিনি। এখন মনে হচ্ছে সেটাই সব থেকে বড় ভুল হয়ে গেল। একজন বেকারকে সুযোগ করে দিতে গিয়ে, আমি নিজেই আজ থেকে বেকার হয়ে গেলাম।’
মৌপাল দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠ স্কুলের ৩ জন শিক্ষক ও ২ জন শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। গোটা স্কুলের পরিবেশ থমথমে! চরম দুশ্চিন্তায় প্রধান শিক্ষক প্রসূন কুমার পড়িয়া।
তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলের তিনজন শিক্ষকই যোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। তাঁরা সত্যিই যোগ্য। খুব ভালো পড়াতেন।’ ওই স্কুলের চাকরিহারা শিক্ষক সত্যজিৎ ঘোড়ই, দানব্রত মাজিরা বলেন, ‘আমরা যোগ্য শিক্ষক। কঠোর পরিশ্রম করে, এসএসসি-তে সফল হয়েছি আমরা। কখনও কোনওভাবেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেনি।’