• অন্য চাকরি ছেড়ে কেশপুরের হাইস্কুলে, নিজের জেলায় ফেরাই কাল হলো অতনুর
    এই সময় | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
  • মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর সবেতেই তাঁর ফার্স্ট ক্লাস। মাধ্যমিকে ৮২ শতাংশ ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৭৬ শতাংশ নম্বর রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১৩ সালে মাদ্রাসা প্যানেলে চাকরি পাওয়ার পর ২০১৬ সালে এসএসসির প্যানেলে চাকরি পান তিনি। এরপর থেকে স্কুলে শিক্ষকতা করে চলেছেন অতনু দত্ত। কিন্তু এসএসসি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় বেরোনোর পর হঠাৎই ঘটল ছন্দপতন। বৃহস্পতিবার চাকরিহারা হলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের ‘জনপ্রিয়’ শিক্ষক অতনু।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী অতনু। সামান্য কয়েক কাঠা জমি চাষ করে দুই ছেলেকে বহু কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়েছেন তাঁর বাবা। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করার পর মেদিনীপুর কলেজে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি।

    এরপর সেখান থেকে স্নাতকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেন গৃহ শিক্ষকতা। গৃহ শিক্ষকতা করার পাশাপাশি একই সঙ্গে স্নাতোকোত্তরের পড়াশোনাও চালিয়ে যান অতনু। তবে স্নাতকোত্তরেও তিনি ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০১২ সালে প্রথম এসএসসি-তে বসে ওয়েটিং লিস্টে থাকার পর ২০১৩ সালে মাদ্রাসা সার্ভিসের প্যানেলভুক্ত হন অতনু। পুরুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় যোগদান করেন তিনি। ২০১৬ সালে এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাদশ-দ্বাদশে প্যানেলভুক্ত হন অতনু। সেই প্যানেলের স্কুল বাছাই পর্বে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের আন্দি চক হাইস্কুলে শিক্ষকতা করার সুযোগ পান তিনি।

    নিজের জেলায় সেই সুযোগ আসার পর আর কোনও কিছু না ভেবে মাদ্রাসার চাকরি ছেড়ে চলে আসেন তিনি। ২০১৮ সালে মাদ্রাসার চাকরি ছেড়ে আসার পর আন্দিচক হাইস্কুলে যোগদান করেন তিনি। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে চাকরি করার পর বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায় শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে জনপ্রিয় স্কুল শিক্ষকের। রায় শোনার পর অতনু বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। মাদ্রাসার চাকরি ছেড়ে নিজের জেলায় ফেরাই কাল হলো আমার!’ সরকারি চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে করেন অতনু। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে স্ত্রী, পুত্র, দাদা-বৌদি ও অসুস্থ বাবা-মা রয়েছেন। এত বড় পরিবারকে নিয়ে এরপরে কী ভাবে তিনি সংসার চালাবেন? কোথা থেকে ফের চাকরি যোগান করবেন? এখন সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে অতনু দত্তের।

  • Link to this news (এই সময়)