• সদ্য জন্মেছে সন্তান, প্যানেল বাতিল হতেই একসঙ্গে চাকরিহারা ‘ভাইরাল’ শিক্ষক দম্পতি
    এই সময় | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
  • মাস তিনেক হলো জীবনে এসেছে নতুন প্রাণ। সুপ্রিম কোর্টের SSC প্যানেল বাতিলের খবরে বাজ পড়ল সদ্যোজাতের বাব-মা মহেন্দ্রনাথ পাল এবং অর্পিতা রায়ের মাথায়। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে নাম ছিল দু’জনেরই। সুপ্রিম রায়ে একসঙ্গে চাকরি বাতিল হল সিউড়ির দম্পতির।

    এসএসসি-এর মাধ্যমে একইসঙ্গে একই স্কুলে চাকরি পেয়েছিলেন মহেন্দ্রনাথ পাল এবং অর্পিতা রায়। সেখানেই হৃদয় বিনিময়, তার পর সাত পাক। ২০১৮ সালে সিউড়ি যদুরায় হাইস্কুলে গণিত শিক্ষক পদে যোগ দেন মহেন্দ্রনাথ পাল আর শিক্ষা কর্মী হিসেবে যোগ দেন অর্পিতা। ২০২২ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। সে সময়ে নিজেদের বিয়ে উপলক্ষে স্কুলের সব পড়ুয়াদের মধ্যাহ্নভোজ খাইয়ে নেটপাড়ায় দারুণ প্রশংসিত হন এই দম্পতি।

    সিউড়ি যদুরায় হাইস্কুলের গণিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর জুটি স্কুলে দারুণ জনপ্রিয়। সহকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের দারুণ প্রিয় মহেন্দ্র ও অর্পিতা। ক্লাস নেওয়া ছাড়াও স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে সহকর্মীদের সাহায্য করা অথবা তাঁদের পাশে দাঁড়ানো থেকে কোন কিছুতেই বিরত থাকতেন না তাঁরা । এদিন তাঁদের চাকরি চলে যাওয়ার খবরে আক্ষেপ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা স্কুলে। আফসোসের সুর প্রধান শিক্ষক সহকর্মী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের গলাতেও।

    সিউড়ি যদুরায় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক যামিনী কান্ত সাহা বলেন, ‘এখনও আমাদের কাছে কোনও অর্ডার আসেনি । তবে আমাদের স্কুলে ২০১৬ সালের প্যানেলের মোট চারজন রয়েছে । সেই হিসেবে এই চারজনের চাকরি চলে গেলে আমাদের স্কুলে গণিত এবং রসায়নের কোন শিক্ষক থাকবে না । চারজনের মধ্যে দুইজন রয়েছেন দম্পতি । মহেন্দ্র পাল এবং অর্পিতা রায়। মহেন্দ্র পাল ছিলেন মাল্টি ট্যালেন্টেড । ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি স্কুলের ইন্টারনেট সম্বন্ধীয় যাবতীয় কাজ তিনি একার হাতে সামলাতেন । এছাড়াও তিনি নেট কোয়ালিফাইড এবং গণিতে পিএইচডি । তাই এখানে যোগ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে না ।’

    অর্পিতা এখন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। স্কুলে যোগ দেওয়ার আগেই এল চাকরি বাতিলের রায়। স্কুলের শিক্ষক পার্থ সারথী ঘোষ পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে জানালেন, ‘ক’দিন আগেও স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর এক কর্মচারী ইদের বোনাস না পাওয়ায় ওই দম্পতি তাঁকে নিজেদের থেকে টাকা দেন। আজ তাঁদের নিজেদেরই আয়ের রাস্তা বন্ধ। জানি না কী হবে এ বার পরিবারের।’ সুপ্রিম রায় শোনার পর আর এদিন স্কুলে আসেননি মহেন্দ্র।

    তথ্য সহায়তা: ঋতভাষ চট্টোপাধ্যায়

  • Link to this news (এই সময়)