• বাড়ল কৌলিন্য, জিআই তকমা পেল মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া
    আজকাল | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  স্বপ্নপূরণ হল মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীর। দীর্ঘ আন্দোলন, আবেদনের পর অবশেষে জিআই তকমা পেল মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া। গত ৩১ মার্চ ভারতের জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন রেজিস্ট্রি চেন্নাই থেকে মুর্শিদাবাদের ছানাবড়াকে জিআই তকমা দেওয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। 

    সূত্রের খবর ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের 'মিষ্টি উদ্যোগের' তরফ থেকে মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া যাতে জিআই ট্যাগ পায় সেই আবেদন করা হয়েছিল। 

    মিষ্টি প্রেমীদের মতে, মুর্শিদাবাদ জেলার বিখ্যাত ছানাবড়া জিআই তকমা পাওয়ার ফলে এর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মহলে আরও বাড়ল। প্রত্যেক বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় যে  বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক আসেন তাঁরাও এই মিষ্টির কথা জানতে পারবেন এবং বিশ্ববাজারে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া। 

    জেলার বহু মিষ্টি প্রেমী বলেন,বহু বছর আগে বহরমপুর নিবাসী মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী ব্রিটিশদের জন্য নিজের বাড়িতে একটি 'পার্টি' দিয়েছিলেন । সেই সময় জনৈক পটল ওস্তাদকে তিনি দায়িত্ব দেন এমন একটি মিষ্টি তৈরি করার জন্য যা খেয়ে ব্রিটিশ আধিকারিকরা তারিফ করবেন। বলা হয়, সেই সময়ই নাকি পটল ওস্তাদ এই মিষ্টি আবিষ্কার করেন এবং তাঁর হাতের তৈরি মিষ্টি খেয়ে মহারাজা নন্দকুমারের তারিফ করেছিলেন ব্রিটিশরা। 

    তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে  এই মিষ্টি তৈরি প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এলেও, কালো-গোলাকৃতির জনপ্রিয় এই মিষ্টি সম্পর্কে অবগত পর্যটকরা, মুর্শিদাবাদ জেলায় ঘুরতে এলেই  হাড়ি ভর্তি করে এই মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। 

    বহরমপুর শহরের কয়েকটি প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানের কারিগরেরা বলেন ,অন্য মিষ্টি তৈরির থেকে ছানাবড়া তৈরির জন্য একজন কারিগরের অনেক বেশি সময় লাগে। ছানাকে চিনির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে গোলাকৃতি করে তারপর তাকে ঘি অথবা ডালডাতে ভাজা হয়। এরপর সেটিকে মিষ্টির রসে ভিজিয়ে রাখতে হয়।

    ছানাবড়া তৈরীর এই পদ্ধতিটি শুনতে সোজা লাগলেও এই মিষ্টি তৈরীর জটিল প্রক্রিয়ার জন্য এখন খুব কম সংখ্যক কারিগরি এই মিষ্টি তৈরিতে পারদর্শী। অল্প আঁচে একটি কড়াইতে ১২০টির মতো ছানাবড়া একসঙ্গে তৈরি করতে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগে ।

    মিষ্টির দোকানের মালিকরা বলেন, ছানাবড়া তৈরির উপকরণের দাম অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় অন্য কিছু মিষ্টি ৭ - ১০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা গেলেও একটু ভালো মানের ছানাবড়া প্রতিটি ১৫-২০ টাকার কমে বিক্রি করা সম্ভব নয়। 

    তবে প্রায় সমস্ত মিষ্টির দোকানের মালিক এক বাক্যে স্বীকার করেছেন, এখনও অন্য মিষ্টির তুলনায় ছানাবড়ায় সবথেকে বেশি অন্য রাজ্য বা জেলায় রপ্তানি হয়ে থাকে। 

    বহরমপুর শহরের প্রখ্যাত মিষ্টির দোকান, জয় মা কালী মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুজিত সাহা বলেন ,'বহু আন্দোলন এবং প্রশাসনিক দরবারের পর অবশেষে মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া জিআই তকমা পেয়েছে। মুর্শিদাবাদের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী হিসেবে এর থেকে আনন্দের খবর আর কিছু হতে পারে না। 'তিনি জানান ,'প্রায় প্রত্যেকদিন পর্যটকদের হাত ধরে প্রচুর পরিমান ছানাবড়া ভিন রাজ্যে বা জেলায় পাড়ি দেয়। জিআই তকমা ক্রেতাদের মধ্যে এই মিষ্টির কদর এবং গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করবে।'

    সুজিতবাবু বলেন ,'ছানাবড়ার জিআই তকমা প্রাপ্তি বিদেশেও এই মিষ্টির কদর বৃদ্ধি করবে বলে আমরা আশাবাদী। বিদেশে এই মিষ্টি রপ্তানি করে আগামীদিন জেলার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা আরও মুনাফার মুখ দেখতে পারেন।'

     
  • Link to this news (আজকাল)