• বেহাল তারাপুরের বিড়ি শ্রমিকদের হাসপাতাল, ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে কেন্দ্র, অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের...
    আজকাল | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেহাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের তারাপুরে বিড়ি শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য নির্মিত রাজ্যের একমাত্র হাসপাতালটি । এই হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা প্রশ্ন এবং সংসদের লেবার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পেশ করা লিখিত রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। 

    প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদ জেলার প্রধান শিল্প বিড়ি তৈরির সঙ্গে কেবলমাত্র জঙ্গিপুর মহকুমায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ জড়িত রয়েছেন। বিড়ি শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেকেই তারাপুরে অবস্থিত কেন্দ্র সরকারের এই হাসপাতালে চিকিৎসা করান। 

    কিন্তু অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সরকার ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না করায় এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। বিড়ি শ্রমিকেরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ওষুধপত্রের অভাবে তাদের ঠিকমতো  চিকিৎসা জোটে না। 

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় লিখিতভাবে হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা জানার জন্য একটি 'আন স্টারড' প্রশ্ন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার ঋতব্রত বলেন, 'গোটা দেশে যত বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন তার অর্ধেকের বেশি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং মোট বিড়ি শ্রমিকের এক চতুর্থাংশ মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। বিড়ি শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ জেলার তারাপুরে কেন্দ্র সরকারের একটি ৬৫ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটি অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। '

    তিনি বলেন, 'সম্প্রতি গোটা বিষয়টি সংসদের লেবার স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে উত্থাপিত হয়েছিল এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি হাসপাতালে দুরবস্থার কথা এক প্রকার স্বীকার করে নিয়েছে। এরপরই আমি সংসদে একটি লিখিত প্রশ্ন করে হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম।'

    তৃনমূল সাংসদ জানান, 'আমরা সকলে অবাক হয়ে দেখলাম স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে এবং কেন্দ্র সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আমার লিখিত প্রশ্নের জবাবে যে উত্তর দিয়েছে তার কোনটিই মিলছে না। রিপোর্টে বলা হয়েছে ওই হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার এবং স্পেশালিস্ট মিলিয়ে মোট ১২ টি পদ রয়েছে। বর্তমানে যেখানে তিনজন রয়েছেন ন'টি আসন খালি রয়েছে। অথচ আমার প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে বর্তমানে সেখানে পাঁচজন চিকিৎসক রয়েছেন। লেবার স্ট্যান্ডিং  কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে ল্যাব টেকনিশিয়ানের পদ ফাঁকা রয়েছে। অথচ আমার করা প্রশ্নের উত্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে সেখানে একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান রয়েছেন। আমরা বুঝে উঠতে পারছি না কোনটি সঠিক তথ্য আর কোনটি বেঠিক। '
  • Link to this news (আজকাল)