বাংলাকে পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, চাকরিহারাদের সঙ্গে ৭ এপ্রিল কথা বলবেন মমতা...
আজকাল | ০৪ এপ্রিল ২০২৫
আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৬ সালে এসএসসি-র নিয়োগে পুরো প্যানেল বাতিল। ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কী বলছেন, নজর ছিল সেদিকে। বৃহস্পতিবার মমতা বললেন, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রয়েছে, কিন্তু তিনিও মানতে পারছেন না এই রায়। একই সঙ্গে বাম-বিজেপির দিকে যেমন একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, তেমনই বোঝালেন পরিবারের কর্ত্রীর মতোই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন বঞ্চিতদের পাশে। মনে করালেন, এই পরিস্থিতিতে, ডিপ্রেসনের মাঝেও, কোনও দুর্ঘটনা নয়। বললেন, যখন বিপদে মানুষের পাশ থেকে সবাই পালিয়ে যায়, তখন কেউ না কেউ আসে তাঁকে রক্ষা করার জন্য।
প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর, শুরুতেই মমতা বলেন, বিচারের রায় পুরোটাই পড়েছেন তিনি, কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। বিচারকের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলেন, এই রায় তিনি মানতে পারছেন না।
আদালতের রায় পড়ে শোনান সাংবাদিক বৈঠকে। ৪৬ পরিচ্ছদ পড়ে বলেন, যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করা হবে না। রায়ের আরও একাধিক অংশ পড়ে শোনান তিনি, বোঝান, বিভ্রান্তি নয়, আদতে আদালত কী বলছে এই রায়ে। সাফ জানান, আদালতের রায় মেনে, নিয়ম মেনে সময়ের মধ্যে নিয়োগ করবে রাজ্য সরকার। জানান, ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এসএসসি স্বশাসিত সংস্থা, রাজ্য সরকার এসএসসিকে নিজেদের ভাবনা জানাবে। মমতা বলেন, ‘আমরা চাই তাড়াতাড়ি হয়ে যাক।‘
চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এতগুলো শিক্ষকের ভবিষ্যৎ, আত্মরক্ষার সুযোগ দেওয়া উচিত। তারপরেই রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাকে আর কত টার্গেট করা হবে?’। মমতার কথায় ব্যাপক কাণ্ডেরও উল্লেখ। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার-সহ বাম বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের প্রশ্ন করেন, ‘মামলা করার আগে ভাবেননি কারা যোগ্য কারা অযোগ্য? সবসময় কেন টার্গেট করা হবে বাংলাকে? কী দোষ তাঁদের?’ রাজ্যে শিক্ষায় শূন্যপদ থাকার পরেও বিষয়টি মামলাধীন থাকার কারণে সরকার কিছু করতে পারেনি, তাও বলেন মমতা।
হিসেব তুলে ধরে জানান, বাতিল শিক্ষকদের মধ্যে ১১,৬১০-নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক, ৫৫৯৬-একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়াতেন, অন্যান্যরা অন্য শ্রেণিতে। কেউ কেউ পরীক্ষার খাতাও দেখছিলেন, একসঙ্গে এই বিপুল চাকরি বাতিলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার কী হবে? তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। বিচারকের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায়, শাস্তি শুধু যদি বদলি হয়, ২৫ হাজার শিক্ষকদের বদলি নয় কেন? সেই প্রশ্নও করেন তিনি।
তবে তিনি যে সবসময় চাকরিহারাদের পাশে রয়েছেন, তা বুঝিয়ে দিলেন বারেবারে। বুঝিয়ে দিলেন, রাজ্যের সরকার রয়েছে ন্যায্য বঞ্চিতদের পাশে, সবসময়। জানালেন, ‘ডিপ্রাইভ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর অনুরোধে সাড়া দিয়ে ৭ এপ্রিল নেতাজি ইনডোরে চাকরিহারাদের সঙ্গে বসবেন আলোচনায়।